X

বাংলার লোকসঙ্গীত- একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বাংলার লোকসঙ্গীত বাংলার মতোই প্রাঞ্জল। হাজার বছরের সংস্কৃতিকে আশ্রয় করে এ সঙ্গীত সম্ভার গড়ে উঠেছে।

গীত, বাদ্য ও নৃত্য এই তিনের সমন্বিত রূপই হচ্ছে  সঙ্গীত। এদিক থেকে লোকগীতি, লোকবাদ্য ও  লোকনৃত্য এই তিনের সমন্বিত রূপকেই লোকসঙ্গীত বলা যায়।

বাংলার লোকসঙ্গীত বৈচিত্র্যময়। মোটা দাগে বাংলায় ২৪ ধরণের লোকজ সঙ্গীতের অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায়- (১) ভাওয়াইয়া গান, (২) ভাটিয়ালী গান, (৩) মারফতী (মরমী) গান, (৪) বাউল গান, (৫) মুর্শিদি গান, (৬) কবিগান, (৭) টপ্পা গান, (৮) লেটো গান, (৯) আলকাপ গান, (১০) গম্ভীরা গান, (১১) সারি গান, (১২) ঘাটু গান, (১৩) গাজীর গান, (১৪) বিয়ের গীত, (১৫) জারি গান, (১৬) ভাদু গান, (১৭) কীর্তন, (১৮) আখড়াই গান, (১৯) চন্দ্ররাজার গীত, (২০) ধামাইল গান, (২১) পাঁচালি গান, (২২) বাদী গীত, (২৩) বাদ্যানীর গান, (২৪) মাইজভান্ডারী গান

ভাওয়াইয়া গান

ভাওয়াইয়া  উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার  লোকগীতি। রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।  দোতারা ভাওয়াইয়া গানের প্রধান  বাদ্যযন্ত্র। শিল্পী  আববাসউদ্দীন আহমদ ভাওয়াইয়া গান জনপ্রিয় করে তোলেন। তাঁর কন্যা ফেরদৌসী রহমান এবং পুত্র মোস্তফা জামান আববাসীও এ গানের জনপ্রিয় শিল্পী।

ভাটিয়ালী গান

ভাটিয়ালী বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের জনপ্রিয় গান। বিশেষ করে নদ-নদী পূর্ণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চলগুলোতেই ভাটিয়ালী গানের মূল সৃষ্টি, চর্চাস্থল এবং সেখানে এ গানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

মারফতী (মরমী) গান

মারফতী শব্দটি এসেছে মা’রাফত শব্দ থেকে। মা’রাফত অর্থ খোদা তায়ালা সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান। মারফতী গান হলো আত্ম তত্ত্বের উপলব্ধি দ্বারা খোদার আনন্দ ময় সত্তার অনুভূতি লাভ করার জন্য সাধক ও ফকিররা যে গান গুলো গায়।

মারেফতি বা ফকিরালী গানের পোশাকী নাম “মরমী সাহিত্য”। সিলেটের মরমী সঙ্গীত বা মরমীবাদী গান বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লোক ঐতিহ্যের অনবদ্য ফসল।

বাউল গান

বাউল গান মূলতঃ বাউল সম্প্রদায়ের গান। যা বাংলা লোকসাহিত্যের একটি বিশেষ অংশ। বাউলরা তাদের দর্শন ও মতামত বাউল গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে থাকে। বাউল মতে সতেরো শতকে জন্ম নিলেও লালন সাঁইয়ের গানের মাধ্যমে উনিশ শতক থেকে বাউল গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন শুরু করে। তিনিই শ্রেষ্ঠ বাউল গান রচয়িতা।

মুর্শিদি গান

মুর্শিদি গান  এক প্রকার আধ্যাত্মিক  লোকসঙ্গীত। সুফিদের দ্বারা এর উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ‘মুর্শিদ’ শব্দটি আরবি; এর শব্দমূল ‘এরশাদ’, অর্থ আদেশ-উপদেশ দেওয়া। যিনি মুরিদ বা ভক্তকে আদেশ-উপদেশ দেন এবং জিকিরাদি দ্বারা অধ্যাত্মপথে পরিচালিত করেন, তিনিই মুর্শিদ। এক কথায়, মুর্শিদ হচ্ছেন আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা বা পথপ্রদর্শক। হিন্দুর আধ্যাত্মিক যোগসাধনায় গুরুর এবং মারফতি ভাবসাধনায় মুর্শিদের স্থান একই।

কবিগান

কবিগান  এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান। দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার। কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

উনিশ শতকের কলকাতায় যে কয়জন কবিয়াল বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে  হরু ঠাকুর (১৭৪৯-১৮২৪), নিতাই বৈরাগী (১৭৫১-১৮২১), রাম বসু (১৭৮৬-১৮২৮),  ভোলা ময়রা,  এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। বিশ শতকে সর্বাধিক জনপ্রিয় কয়েকজন কবিয়াল হরিচরণ আচার্য (১৮৬১-১৯৪১),  রমেশ শীল (১৮৭৭-১৯৬৭), রাজেন্দ্রনাথ সরকার (১৮৯২-১৯৭৪), মানিকগঞ্জের রাধাবল্লভ সরকার, উপেন্দ্র সরকার, ভাসান সরকার, কুমুদ সরকার, অভয়চরণ সরকার, বিজয়কৃষ্ণ অধিকারী (১৯০৩-১৯৮৫), গুমানী দেওয়ান প্রমুখ।

টপ্পা গান

টপ্পা গান কলকাতা অঞ্চলের একটি লৌকিক গান। এটি পাঞ্জাব অঞ্চলের মূল গানের সাথে মিল থাকলেও বাংলায় এটি রাগাশ্রয়ী গান হিসেবে পরিচিত। রামনিধি গুপ্ত (নিধু বাবু) এর উদ্ভাবক বলে পরিচিত। অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে পাঞ্জাব অঞ্চলের লোকগীতি টপ্পা গানের প্রচলন শুরু হয়। প্রধানত উটের গাড়ি চালকের মুখেই টপ্পা গান বেশি শোনা যেত। শোরী মিয়া (১৭৪২-১৭৯২) নামে একজন সঙ্গীতজ্ঞ টপ্পা গানগুলোকে সাঙ্গিতিক আদর্শে সাজিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি গায়ন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এ পদ্ধতি অনুসরণ করে রামনিধি গুপ্ত বা নিধু বাবু (১৭৪১-১৮৩৯) বাংলা টপ্পা রচনা করেন।

লেটো গান

লেটো গান  পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে প্রচলিত এক প্রকার  লোকসঙ্গীত। এটি যাত্রাগানের প্রকারভেদ। যাত্রাগানের মতোই পালার আকারে রচিত এ গান নৃত্য ও অভিনয়সহ পরিবেশন করা হয়; সঙ্গে থাকে বাদকদল। লেটো গান শুরু হয় বন্দনা দিয়ে। সখি, সঙদার, পাঠক বিভিন্ন নামে নট-নটীরা গান ও নাচ পরিবেশন করে। কিশোর বালকরা মেয়েদের পোশাক পরে নটী সাজে। এর বিষয়বস্ত্ত সামাজিক রঙ্গরস ও আটপৌরে গ্রামীণ জীবন; পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়েও পালা রচিত হয়।

আলকাপ গান

আলকাপ গান  পালাগানের একটি শাখা। সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহ এবং বাংলাদেশের  রাজশাহী অঞ্চলে এ গানের প্রচলন বেশি। আলকাপ একটি দলীয় ও মিশ্র প্রকৃতির সঙ্গীত প্রদর্শন। এতে নাচ, গান, কথা, ছড়া, অভিনয় ইত্যাদির মিশ্রণ আছে। দশ-বারোজন শিল্পী নিয়ে আলকাপের দল গঠিত হয়। দলের প্রধানকে বলা হয় সরকার, ওস্তাদ বা মাস্টার। অন্যদের মধ্যে থাকে দু-একজন সঙদার, দু-তিনজন ছোকরা এবং বাকিরা দোহার ও বাদ্যকর। রাত্রিবেলায় উন্মুক্ত মঞ্চে আলকাপের অনুষ্ঠান বসে। বিদ্যুতের বিকল্পে হ্যাজাকের আলোয় প্রায় রাতভর এ অনুষ্ঠান চলে। মঞ্চের চারপাশে দর্শকরা ভিড় করে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে গান শোনে, আর দলের সদস্যদের মঞ্চে যাতায়াতের জন্য থাকে একটি সরু পথ।

গম্ভীরা গান

গম্ভীরা গান  এক প্রকার জনপ্রিয়  লোকসঙ্গীত। সাধারণত বৃহত্তর  রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত। ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব। ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে। শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান। গম্ভীরা উৎসবের সঙ্গে এ সঙ্গীতের ব্যবহারের পেছনে জাতিগত ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।

সারি গান

সারি গান আবহমান বাংলার লোকসঙ্গীত। শ্রমিক ও কর্মজীবীদের মাঝে বিশেষ জনপ্রিয় হওয়ায় সারি গান ‘শ্রম-সঙ্গীত’ বা ‘কর্ম-সঙ্গীত’ নামেও পরিচিত। ছাদ পেটানোর সময় এ গান গাওয়া হয় বলে এঁকে ছাদ পেটানোর গান ও বলা হয়। সারি গান নৌকার মাঝি-মাল্লাদের সঙ্গেই বেশি যায়। নৌকার মাঝি, কর্মজীবী ও শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে বা সারিবদ্ধভাবে কাজের তালে তালে শ্রম লাঘব করার জন্য এ গান থেকে থাকে। এ জন্যই এ গানের নাম হয়েছে ‘সারি গান’। খেটে খাওয়া মানুষদের কাছে এ গানের এক বিশেষ মহত্ত্ব রয়েছে। কারণ এ গানের মাঝে শ্রমিকরা কাজের উদ্যম ও শক্তি ফিরে পায়।

ঘাটু গান

ঘাটু গান  বিলুপ্তপ্রায় এক প্রকার লোকগীতি। ঘাটে ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে এ গান গাওয়া হয় বলে এর নাম হয়েছে ‘ঘাটের গান’ বা ‘ঘাটু গান’। নটীবেশে কিশোর বালক নৃত্যসহ এ গান পরিবেশন করে। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা ও দৈনন্দিন জীবনের বিচিত্র ঘটনা ঘাটু গানের বিষয়বস্ত্ত।

এক বা একাধিক সুদর্শন কিশোর ঘাটু আসরের কেন্দ্রীয় চরিত্র। এরা বংশপরম্পরায় ঘাটু গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ঘাটুদের সুকণ্ঠের অধিকারী, অল্পবয়সী এবং লম্বাকেশী হতে হয়। এদের যুবতীসুলভ রূপ-লাবণ্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, সুমধুর কণ্ঠ, অঙ্গভঙ্গি, নৃত্য প্রভৃতি দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

গাজীর গান

গাজীর গান  গাজী পীরের বন্দনা ও মাহাত্ম্য গীতি। প্রধানত ফরিদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে এ গান এক সময় প্রচলিত ছিল। সন্তান লাভ, রোগব্যাধির উপশম, অধিক ফসল উৎপাদন, গো-জাতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি এরূপ মনস্কামনা পূরণার্থে গাজীর গানের পালা দেওয়া হতো।

বিয়ের গীত

বাঙালি সংস্কৃতিতে লোকসঙ্গীতের যে কয়েকটি ধারা ক্রমান্বয়ে লোকসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে তার মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ‘বিয়ের গীত’ অন্যতম। প্রচলিত এবং তাৎক্ষণিকভাবেও রচিত এই গানগুলি লোকসংস্কৃতির এক অমূল্য ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যদিও মুসলিম সমাজ ব্যবস্থায় সঙ্গীত পরিবেশনের বিপক্ষে নানা মত রয়েছে। তবুও দীর্ঘকাল ধরে অধিকাংশ মুসলিম পরিবারে বিভিন্ন উৎসব-আনন্দে সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে ওতপ্রোতভাবে মিশে রয়েছে সঙ্গীত।

জারি গান

জারি গান বাংলাদেশের এক প্রকারের ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতরীতি। ফার্সি জারি শব্দের অর্থ শোক। মুহাররম মাসে কারবালার বিয়োগান্তক কাহিনীর স্মরণে মূলত এই গানের উদ্ভব। ১৭শ শতক থেকে বাংলায় এই গানের ধারা শুরু হয়।

ইসলামের ইতিহাস ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী নাট্যধারার সর্বাধিক জনপ্রিয় পরিবেশনারীতি হচ্ছে জারিগান। কারবালার যুদ্ধে শহীদ ইমাম হাসান-ইমাম হোসেন ও অন্যান্য চরিত্রের অন্তর্গত বেদনা নিয়ে এক ধরনের আহাজারিমূলক সুরে সাধারণত নৃত্য সহযোগে জারিগান পরিবেশিত হয়ে থাকে। এক সময় সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন আঙ্গিকে জারিগানের প্রচলন ছিল। বর্তমানে এ ধরনের নাট্য পরিবেশনার প্রচলন পূর্বের ধারাবাহিকতার চেয়ে কিছুটা কমে গেলেও তা একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

ভাদু গান

ভাদু গানের উৎপত্তি নিয়ে ভারতের মানভূম অঞ্চলে বেশ কিছু লোককাহিনী প্রচলিত রয়েছে। পঞ্চকোট রাজপরিবারের নীলমণি সিংদেওর তৃতীয়া কন্যা ভদ্রাবতী বিবাহ স্থির হওয়ার পর তার ভাবী স্বামীর অকালমৃত্যু হলে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। ভদ্রাবতীকে জনমানসে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নীলমণি সিংদেও ভাদু গানের প্রচলন করেন। কিন্তু এই কাহিনীগুলি ঐতিহাসিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

কীর্তন

কোন দেব-দেবীর নাম, গুণাবলী বা কীর্তিকাহিনী সম্বন্ধিত গান হলো কীর্তন । প্রখ্যাত সংস্কৃত পন্ডিত জয়দেব রচিত গীতগবিন্দম, কীর্তন গানের প্রকৃত উৎস। এছাড়াও বাড়ু চন্ডিদাস, শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বিদ্যাপতি প্রভৃতি কবিগন প্রচুর কীর্তন গান রচনা করেন। ১৫০০ শতকে শ্রীচৈতন্য ভক্তি সংগিতের এই ধারার প্রভূত উন্নতি সাধন করেন।

আখড়াই গান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি আঞ্চলিক শ্রেণীর গান। অষ্টাদশ শতকে বাংলা গানের যে ধারাগুলি বিশেষ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম একটি হলো আখড়াই গান। মনে করা হয় সেন রাজাদের আমলে নৃত্যগীত সহযোগে যে শাস্ত্রীয় গীতের প্রচলন ছিল তারই একটি শাখা ‘আখড়াই’ নামে পরিচিত হয়েছিল।

চন্দ্ররাজার গীত

চন্দ্ররাজার গীত বাংলা সাহিত্যের লোকগাথা। এর রচনার সময়কাল সপ্তদশ শতাব্দীর বলে ধারণা করা হয়। বাংলা একাডেমীর নিয়মিত সংগ্রাহক চৌধুরী গোলাম আকবর সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রাম থেকে এটি সংগ্রহ করেছিলেন। রামপাশা গ্রামের বসিন্দা আজিদ আলী ছিলেন এই গীতিকার গায়েন। চৌধুরী গোলাম আকবর ১৯৬৪ সালে এটি সংগ্রহ করে বাংলা একাডেমীতে জমা রাখেন।

ধামাইল গান

ধামাইল গান সিলেট অঞ্চলে প্রচলিত একজাতীয় কাহিনী সম্বলিত গান যা এই অঞ্চলের লোকসাহিত্যের একটি অংশ। যে কোন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানেই এই গীত-নৃত্য পরিবেশনা স্বাভাবিক বিষয় হলেও বর্তমানে সাধারণতঃ সনাতন ধর্মীদের বিয়ের অনুষ্ঠানেই এর অধিক প্রচলন দেখা যায়। রাধারমণ দত্ত কর্তৃক এই গান সর্বাধিক প্রচারিত ও প্রচলিত হওয়ায় তাঁকেই এর স্রষ্টা বলে গণ্য করা হয়।

পাঁচালি গান

পাঁচালি গান বাংলার প্রাচীন লৌকিক সংগীতগুলোর অন্যতম। এই গান প্রধাণতঃ সনাতন ধর্মীদের বিবিন্ন আখ্যান বিষয়ক বিষয়বস্তু সম্বলিত ও তাদের তুষ্টির জন্য পরিবেশিত হয়। লক্ষীকান্ত বিশ্বাস কর্তৃক এই গান সর্বাপ্রথম প্রচলিত হওয়ায় তাকেই এর স্রষ্টা বলে গণ্য করা হয়।

বাদী গীত

বাদী গীত হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষদের দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত একপ্রকার দলবদ্ধ গান বা গানের লড়াই। বাদী গীতে নারী-পুরুষের দেহপ্রসঙ্গ নিয়ে কৃষির অনুষঙ্গে জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধির অনুরূপ জাদুবিশ্বাস পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর প্রভৃতি অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

বাদ্যানীর গান

বাদ্যানীর গান হল বাংলার একধরনের লোকসঙ্গীত। সাপুড়ে বা বেদে জনগোষ্ঠীর মানুষেরা পল্লীগ্রামে ঘুরে ঘুরে সাপের খেলা দেখানোর সময়ে এই বিশেষ ধরনের গান গেয়ে থাকে।

মাইজভান্ডারী গান

মাইজভান্ডারী গান মাইজভান্ডারী ধারার অনুসারীদের গাওয়া মরমী গান। এ ধারার প্রবর্তক সৈয়দ আহমদুল্লাহ মাইজভান্ডারী। একশ বছরের ও আগে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় এ ধারার উদ্ভব হয়। আজ পর্য্যন্ত শতাধিক ভক্ত কবি হাজারের ও বেশি গান রচনা করেছেন। রমেশ শীল, আবদুল হাদি, বজলুল করিম, আবদুল গফুর হালী, মনমোহন দত্ত, মাহাবুব উল আলম প্রমুখ মাইজভান্ডারী গান রচনা করে সুনাম অর্জন করেন।

সংকলিত নিবন্ধ

সম্পর্কিত অন্যান্য ব্লগ