মন-প্রাণের সম্পর্ক ও মানুষের অমরত্ব

মন-প্রাণের সম্পর্ক ও মানুষের অমরত্ব

প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ তার প্রাণ। সকল প্রাণীর প্রাণ থাকে। মানবদেহে প্রাণ হলো মন, আবেগ-অনুভূতি ও কামনা-বাসনার এক মিথস্ক্রিয়া। অন‍্যান‍্য প্রাণীর সাথে মানুষের পাথর্ক‍্য হলো প্রাণে মনের উপস্থিতি। যদি মন না থাকতো তবে অন‍্য সকল প্রাণী থেকে মানুষকে কখনও আলাদা করা যেত না। মানুষের মন তার চেতন-অর্ধচেতন-অবচেতন ভাবনা, যুক্তি ও জ্ঞানের সামষ্টিক প্রতিফলন। প্রাণী হিসেবে প্রাণের

যৌনতা যদি অজ্ঞতা, ধর্ষণ তবে জৈবিক অধিকার

যৌনতা যদি অজ্ঞতা, ধর্ষণ তবে জৈবিক অধিকার

‘ধর্ষণ কোনো আধুনিক ব্যাপার নয়, এবং বিশেষ কোনো সমাজে সীমাবদ্ধ নয়। তবে কোনো কোনো সমাজ বিশেষভাবে ধর্ষণপ্রবণ, আর কোনো কোনো সমাজ অনেকটা ধর্ষণমুক্ত; যদিও সম্পূর্ণ ধর্ষণমুক্ত সমাজ ও সময় কখনই ছিল না, এখনো নেই।… পৃথিবীতে পৌরাণিক কাল আর নেই, দেবতারা আর ধর্ষণ করে না; তবে দেবতাদের স্থান নিয়েছে আজ পুরুষেরা; প্রায় অবাধ ধর্ষণ চলছে আজ পৃথিবী

রোহিঙ্গা সমস্যা জাতিগত, ধর্মীয় নয়

রোহিঙ্গা সমস্যা জাতিগত, ধর্মীয় নয়

জাতিগোষ্ঠীতে বৈচিত্রপূর্ণ দেশ মিয়ানমার। ঐ সরকারের তথ্য মতে, সেখানে ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠী রয়েছে যারা আটটি প্রধান ভাগে বিভক্ত- বামার, কাচিন, কাইয়াহ, কাইন, চিন, মুন, রাখাইন, শান ও অন্যান্য (ওয়া, নাগা, লাহু, লিসু ও পালাউঙ)। এদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠি যারা মিয়ানমারের জাতিসত্ত্বার মূলধারা বহন করে তারা ‘বামার’ হিসেবে পরিচিত। এ সংখ্যা মাত্র ৬৮ শতাংশ, জনসংখ্যার বাকী অংশ

বার্থোলোমেউ দিবস হত্যাযজ্ঞ

বার্থোলোমেউ দিবস হত্যাযজ্ঞ

যিশু খ্রিস্টের বারো জন শিষ্যে একজন বার্থোলোমেউ (Bartholomew)। ইউরোপে খ্রিস্টানরা ২৪ আগস্টে বার্থোলোমেউ দিবস পালন করতো। ১৫১৭ সালে খ্রিস্টান ধর্ম দুই ভাগ- ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট এ বিভক্ত হয়ে যায়। এ বিভাজনে নেতৃত্ব দিয়েছিল জার্মানির মার্টিন লুথার। ইউরোপের ইতিহাসে এ সময়টাকে ‘সংস্কারকাল’ (Reformation) বলা হয়। ঐ বিভেদের ফলে খ্রিস্টানদের দুই শাখার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সমগ্র ইউরোপে বিশেষ

কাপোয়েরা

কাপোয়েরা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ হার্ড টার্গেট, স্ট্রিট ফাইটার, কিক বক্স-ইউনিভার্সেল সোলজার ও দ্য এক্সপ্যানডেবলস ২ ছায়াছবিতে বেলজিয়ান অভিনেতা ভ্যান ড্যামের মারামারি যেমন মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেছেন। তেমনিভাবে মজা পেয়েছেন ব্লেড ১, ২, ৩ ছবিতে মার্কিন অভিনেতা স্নাইপের মারামারির কলাকৌশলে। ব্যবসা সফল এসব চলচ্চিত্রের মূলে রয়েছে এই দুই অভিনেতার ব্রাজিলিয়ান ফাইটিং স্টাইল। এই স্টাইলটির নাম

BCS এখন এক নেশার নাম

BCS এখন এক নেশার নাম

গত বারো বছর আগেও এমন ছিল না। মানুষ বিসিএস নিয়ে এত উৎসুক ছিলো না। গত এক দশক ধরে বিসিএস নিয়ে বেকারদের উৎসাহ এক ধরনের উন্মত্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছে। উন্মত্ততা এখন তো দেখি মাদকতায় রূপ নিয়েছে। গত এক দশকে যে পরিমাণ মানুষকে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এমনকি এত অল্প সময়ে এত বেশি

জন্ম ও মৃত্যু একটি অপূর্ণাঙ্গ সত্য

জন্ম ও মৃত্যু একটি অপূর্ণাঙ্গ সত্য

জীব হলো আত্মা, দেহ ও চেতনাবোধের সামষ্টিক প্রতিফলন। যার জন্ম আছে তার মৃত্যু আছে, যা সৃষ্টি হয় তা ধ্বংস হয়। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যুও নেই। আত্মা পরমাত্মার সৃষ্টি, কেবল তিনিই তা ধ্বংসের ক্ষমতা রাখেন। তবে পরকালতত্ত্ব আত্মাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করে কারণ পরকালে যদি আত্মাকে জবাবদিহিতা করতে হয় তবে তাকে অবশ‍্যই টিকে থাকতে হবে। সুতরাং,

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতাটি হয়তো অনেকের মনে আছে। কবিতাটির দ্বিতীয় পঙক্তিটি এমন ছিল- ‘বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে৷’ স্যার চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ক্লাসে কবিতাটি পড়াতেন। এমনিতে সব ঠিকঠাক ছিল; শুধু দুটি বিষয়ে রবীন্দনাথের সাথে স্যারের বিরোধ ছিল-(এক) ২য় ও ১০ পঙক্তিতে তিনি “জল” শব্দ বদলে দিয়ে “পানি” দিয়ে পড়াতেন। যেমন- “বৈশাখ মাসে তার হাঁটুপানি থাকে”…“গামছায় পানি ভরি গায়ে

Alauddin Vuian

দানদানকান লড়াই- প্রেক্ষাপট ও ফলাফল

দানদানকান (Dandanqan) এর ঘটনাকে ইতিহাসে Battle of Dandanqan বলা হয়, War of Dandanqan নয়। বাংলায় Battle ও War দুটোকেই “যুদ্ধ” বলা হলেও দুটো এক নয়। সে জন্য একে ‘দানদানকান লড়াই’ বলা যেতে পারে। লড়াইটি হয়েছিল ১০৪০ সালে, খোরাসানে (Khurasan)। বর্তমান ইরানের উত্তর- পূর্বাঞ্চল, তুর্কিমেনিস্তানের দক্ষিণাঞ্চল ও আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল খোরাসান। ৯৭৭ থেকে ১১৮৬ সাল পর্যন্ত

ফেসতা জুনিনা

ফেসতা জুনিনা

উৎসবপ্রেমী ব্রাজিলিয়ানদের তিনটি মূল সংস্কৃতি রয়েছে-  মহোৎসব কার্নিভাল, শৈল্পিক আত্মরক্ষা কৌশল কাপোয়েরা আর জাপানি জুডোর ব্রাজিলিয়ান সংস্করণ জু-জুৎসু। এ তিনটির মতো জনপ্রিয় না হলেও ব্রাজিলে আরেকটি সাংস্কৃতিক উৎসব আছে, নাম ফেসতা জুনিনা (Festa Junina) বা জুন উৎসব। ক্যাথলিক প্রথা হতে উদ্ভূত জুন মাসের এ উৎসবের ইতিহাস সুপ্রাচীন। রোমান প্রাতীচ্য পুরাণের প্রেম ও বিশ্বস্ততার দেবী জুনো ছিলেন শনি বা স্যাটার্নের কন্যা, বৃহস্পতি