শব্দরহস্যভেদ-৩: Complementary, Supplementary, Bumfuzzle, Bailiwick ও Backbiting এর রহস্যভেদ

Complementary (পরিপূরক) ও Supplementary (সম্পূরক)

ইংরেজির Complementary ও Supplementary শব্দ দুটি প্রায়শঃ ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়। এর মূল কারণ আমরা এ দুটি শব্দের অর্থ ভালোভাবে অনুধাবন করি না।

Complementary হল পরিপূরক, অর্থাৎ যা পূর্ণতা প্রদান করে। উদাহরণ হিসেবে সংসার শব্দটির কথা বলা যায়। সংসার শব্দটির মধ্যে স্বামী ও স্ত্রী শব্দ দুটি লুকানো থাকে। সংসারে স্বামী ও স্ত্রী- দুজনের অবদান অবদান একে অপরের পরিপূরক। এর অর্থ হলো কোন একজন আরেকজনের কাজ করতে পারে না। কোন একজন অবদান না রাখলে সংসার পূর্ণ হয় না। দুজনের মিলিত অবদানই সংসার।

আরেকটি উদাহরণ দেখা যায়। দাবা খেলার কোট। সাদা ও কালো দুই রঙের ঘরের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দাবার কোট হয়। সাদার ঘর একটা কম হলে বা কালোর ঘর একটা বেশি হলে সে কোটকে দাবার সঠিক কোট বলা যাবে না। এখানেও সাদা ও কালো রঙের ঘর একে অপরের পরিপূরক।

Supplementary হল সম্পূরক। সম্পূরক অর্থ সহায়ক। উদাহরণ হিসেবে চৌবাচ্চার কথা বলা যায়। একটি চৌবচ্চার দুটি নল দিয়ে পূর্ণ হয়। এখানে আরো একটি নল যোগ করা হলো। ফলে চৌবাচ্চাটি আগের থেকে দ্রুত ভরবে। কিন্তু সেটা না থাকলেও খুব একটা ক্ষতি নেই। চৌবাচ্চা ঠিকই পূর্ণ হবে। হয়তো সময় বেশি লাগবে।

আরেকটি উদাহরণ দেয়া যায়। অনেকে প্রবন্ধ বা নিবন্ধের শেষে উৎস উল্লেখ করেন। এই উৎস হলো মূল লেখার সম্পূরক। কারণ মূল লেখার সাথে এটা থাকলে লেখা সমৃদ্ধ হয়, মানসম্মত হয়। কিন্তু বাদ দিলেও মূল লেখা টিকে থাকতে পারে।

এক কথায়, পরিপূরক ও সম্পূরকের মূল পার্থক্য হলো অংশীদারত্ব। পরিপূরকের অবদান অবিচ্ছেদ্য ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সম্পূরক হলো সহায়ক, অংশীদারী নয়।

তবে জ্যামিতিতে পরিপূরক ও সম্পূরক কোণের সংজ্ঞা আর ভাষাগত ভাবে Complementary ও Supplementary এর ব্যবহার ভিন্ন। জ্যামিতিতে, দুইটি কোণের যোগফল ৩৬০° বা চার সমকোণ হলে কোণ দুইটিকে পরস্পর পরিপূরক কোণ বলে। অন্যদিকে, যে দুই কোণের যোগফল দুই সমকোণের সমান তারা একে অপরের সম্পূরক। এক্ষেত্রে এই দুই কোণকে আলাদাভাবে বোঝার জন্য ৩৬০° ও ১৮০°গুরুত্বপূর্ণ, অবিচ্ছেদ্য অংশীদারত্ব নয়।

Bumfuzzle (বিভ্রান্ত করা)

নিতম্বের সাথে রহস্য যুক্ত হওয়ার রহস্য কী?

মানুষের মুখের মতো কিছু কাপড়েও ব্রণ ওঠে। পলেস্টার বা উলের কাপড় একটু পুরাতন হলে ব্রণটা বেশি ওঠে। গোল গোল এসব গুটি কাপড়ের ভাষায় ববলিন (boblin), পিল (pill) নামে পরিচিত।

ববলিন আসলে কাপড়ের ফেশো বা আঁশ। ইংরেজিতে ফাজ (fuzz)। আঁশের মতো কোঁকড়ানো, প্যাঁচানো ফাজিল চুলকে তাই ফাজি (fuzzy) চুল বলে।

ঝাপসা, অস্পষ্ট অর্থেও ফাজি বসে। অনেক অনেক বেশি ফাজি হলো ফাজল (fuzzle) বা ধাঁধাঁ। তবে একে পাজল (puzzle) বললেও ভুল হয় না।

কিছু কিছু ধাঁধাঁ বা fuzzle আছে যেগুলোর রহস্য সমাধান করতে গেলে অনেকের bum (নিতম্ব) চুলকে ওঠে। তাই bum ও fuzzle মিলে ইংরেজিতে আরেকটি শব্দ তৈরি করেছে- bumfuzzle। এই বামফাজল শব্দের অর্থ বিভ্রান্ত করা, গুলায়ে ফেলা। সহজ ইংরেজিতে confuse।

Bailiwick (জ্ঞানের বলয়)

Bailiwick শব্দটা বাঙালির কাছে তেমন পরিচিত না।

এককালে জমিদারদের খাজনা আদায়ের লোক থাকতো। এদেরকে গোমস্তা বলা হত। এখন এরা তহসিলদার নামে পরিচিত।

তহসিলদারকে ইংরেজিতে বেইলিফও (bailiff) বলে। বেইলিফদের খাজনা আদায়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত এলাকার নাম ‘বেইলি’ (bailey)। ঢাকার বেইলি রোডের নামকরণের সাথে গোমস্তাদের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে।

তবে নাজির হোসেনের “কিংবদন্তির ঢাকা” বলছে, ওয়াহাবী আন্দোলন দমনকালে স্পেশাল বেঙ্গল পুলিশের ডি, আই, জি, এইচ বেইলী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই বেইলী রোডের নামকরণ করা হয়েছে।

এখন আরেকটা শব্দে আসি। এটা হলো wick। মানে সলতে। হারিকেন বা মোমবাতিতে যে ফিতা বা সুতাটা জ্বলে আলো দেয়, সেটাই সলতে। সলতের আগুন যেটুকু এলাকাকে আলোকিত করে তা হলো মোমবাতি বা হারিকেনের আলোর পরিমণ্ডল বা বলয়।

এলাকা bailey আর সলতে wick মিলে ইংরেজিতে আরেকটা শব্দ তৈরি করেছে- Bailiwick। মানে ‘বেইলিফ বা তহসিলদারের অধিকারভুক্ত এলাকা’। একটু খেয়াল করলে বোঝা যায়, সলতের যেমন আলোর পরিমণ্ডল থাকে, তহসিলদারেরও তেমন খাজনা আদায়ের অধিকারভুক্ত বলয় রয়েছে।

এখানে শেষ নয়। Bailiwick শব্দের আরেকটি সুন্দর অর্থ আছে। তা হলো, জ্ঞানের বলয়। কোন ব্যক্তির কোন বিষয়ে জ্ঞানের বা দক্ষতার পরিমণ্ডল বা বলয় সেই ব্যক্তির bailiwick।

Backbiting (পরনিন্দা)

আর কোনখানে দাঁত বসাতে না পেরে রাগের চোটে পাছায় কামড়াইছি। কামড়ায়ে ছিন্নভিন্ন করে দিছি।

কামড়াবো কেন? বাজার থেকে বৌ কাল হাঁস কিনেছে। নববর্ষের হাঁস। আজ রান্না হলো। আশ্চর্য!

হাঁসের গায়ে একদম মাংস নেই। কিটো ডায়েট করা হাঁস। যেখানে কামড় বসাই, শুধু হাড্ডি। ডায়েট করে যেটুকু মাংস হাড্ডির গায়ে লেগে আছে তাও ছেঁড়া কষ্ট।

বললাম, ‘কিটো হাঁস আনছো কেন?’

‘দাঁতে জোর নেই, হাঁসের দোষ?’ পাল্টা প্রশ্ন।

‘জোর নেই মানে? হাঁসের হাঁড়ি আনো। জোর দেখাচ্ছি।’

হাঁড়ি সামনে। উল্টেপাল্টে দেখছি। পুরো হাঁসের কিটো বডি। শেষমেষ মাংসল দু’চারটি টুকরো পেলাম। পেয়েই কামড়। রাগের কামড়, ক্ষোভের কামড়।

বিজয়ী হাসি দিয়ে বৌকে বললাম, ‘দেখো, দাঁতে জোর আছে কি না!’

সে বলে, ‘তা তো হবেই। এখন তো হাঁসের পাছা কামড়াচ্ছো।’

‘ওহ, তাইতো। এগুলো তা হাঁসের পাছার মাংস।’

ইংরেজিতে backbiting বলে একটি শব্দ আছে। মানে পরনিন্দা, পরচর্চা। যখন কারো সম্মুখে আমাদের কিছু বলার থাকে না, করার থাকে না, তখন আমরা ‘ব্যাকবাইটিং’ করি। মানে পাছায় কামড়াই।

বেচারা হাঁস। কিটো করে বডি সামলাইতে পারলি, পাছা সামলাইতে পারলি না।

(ধারাবাহিকভাবে শব্দরহস্যভেদ চলবে)

শেয়ার করুন