বাইজানটাইন-সাম্রাজ্য

বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন

বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের উত্থান হয় পশ্চিম রোমক সভ্যতার পতনের সূচনা থেকে। রোমক সম্রাট ডাইক্লিশান ২৮৫ সালে প্রথম রোমক সাম্রাজ্যকে প্রথম পূর্ব ও পশ্চিমে বিভক্ত করে। পরে তিনি আবার ২৯৩ সালে একে চার ভাগে বিভক্ত করে চার জন সম্রাটের রাজ্যভূক্ত করে। চার ভাগে বিভক্ত এ রোমক সাম্রাজ্যের ফ্রান্স থেকে বৃটেন পর্যন্ত অঞ্চলের সম্রাট কনসট্যানটিআসের মৃত্যুর পরে পুত্র

চার ভাগে ভিভক্ত রোমক সাম্রাজ্য

রোমক সাম্রাজ্যের পতনঃ রোমক সভ্যতার ইতিহাস (৪র্থ ভাগ)

চার সম্রাটের এক বছর (৬৮-৬৯) নেরোর মৃত্যুর পরে রোমে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ বছরের মধ্যে একে একে তিন জন সম্রাট হয়ে রোমের সিংহাসনে বসে, কিন্তু কেউ টিকতে পারেনি। প্রথমে এলেন নিয়োগকৃত হিস্পানিয়াতে (বর্তমান স্পেন) রোমের গভর্নর গালবা। টিকলেন মাত্র সাত মাস। গালবাকে হত্যা করে ক্ষমতায় এলেন নেরোর পুরাতন রাজ সহচর- অথো। অথো ছিলো নেরোর স্ত্রী

ক্যালিগুলার শাসনামলে রোমক সাম্রাজ্য

রোমক সাম্রাজ্যঃ রোমক সভ্যতার ইতিহাস (৩য় ভাগ)

রোমক সাম্রাজ্য সূচনা করে অগাস্টাস। ১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অগাস্টাস রোমক সাম্রাজ্যের সম্রাট ছিলেন। সে আনুষ্ঠানিক ভাবে রোমক গণপ্রজাতন্ত্র বিলুপ্ত করেনি। ক্ষমতায় এসে সে পুনরায় সিনেট প্রতিষ্ঠা করে। তবে নিজেকে সিনেটের সর্বক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। সে সিনেটের যেকোনো সিদ্ধান্তে ‘ভেটো’ দিতে পারতো। তার পদবী ছিলো ‘প্রিন্সেপস সেনাটাস’ (princeps senatus) বা প্রথম সিনেটর। সে প্রায় ৮২টি মন্দির নির্মাণ করে। রোমের

হানিবালের-রোম-আক্রমণ

রোমক গণপ্রজাতন্ত্রঃ রোমক সভ্যতার ইতিহাস (২য় ভাগ)

রোমক গণপ্রজাতন্ত্র (৫০৯-২৭ খ্রি.পূ.) খ্রিস্টপূর্ব ৫০৯ সালে রোমকরা রাজতন্ত্র থেকে গণপ্রজাতন্ত্রের যুগে পদার্পণ করে। রোমক গণপ্রজাতন্ত্র S.P.Q.R নামে পরিচিত ছিল। S.P.Q.R বলতে Senātus Populusque Rōmānus বোঝায়। এর অর্থ ‘রোমক সিনেট ও জনগণ’। রোমক গণপ্রজাতন্ত্রের সংবিধান অনুসারে রোমের শাসন ব্যবস্থায় তিনটি বিভাগ ছিল- বিধানসভা (assembly), সিনেট ও ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাহী প্রশাসনের সর্বোচ্চে ছিল দুই কনসাল (consul)। বিধানসভার

কারোলি তাকাকসঃ স্বপ্নের হাতে অঙ্গীকারের ট্রিগার

কারোলি তাকাকসঃ স্বপ্নের হাতে অঙ্গীকারের ট্রিগার

কারোলি তাকাকসঃ এক হাত নিয়ে দুইবার অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় কারোলি তাকাকস (১৯১০-১৯৭৬) ছিল হাঙ্গেরিয় সেনাবাহিনীর সবচেয়ে দক্ষ ডানহাতি স‍্যুটার। সে সময়ে হাঙ্গেরির জাতীয় পর্যায়ের সবগুলো স‍্যুটিং প্রতিযোগিতায় সে ছিল অপরাজিত চ‍্যাম্পিয়ন। তাকাকসের অলিম্পিকে সোনা জয়ের স্বপ্ন ছিল। ১৯৩৬ সালে সার্জেন্ট তাকাকস বিশ্বমানের একজন পিস্তল-স‍্যুটার। তবে কমিশনড অফিসার না হওয়ার কারণে হাঙ্গেরি তাঁকে ৩৬ সালের অলিম্পিকে

রোমুলাস ও রেমুস ব্রোঞ্জমূর্তি (৫০০-৪৮০ খ্রি.পূ.)

রোমক সভ্যতার উত্থানঃ রোমক সভ্যতার ইতিহাস (১ম ভাগ)

রোমক সভ্যতার ইতিহাস বলতে গেলে বলতে হবে প্রায় সাড়ে বাইশ শত বছর আগের কথা। ভূ-মধ্য সাগরের উত্তরের তীর ঘেঁষে ছোট একটি শহর গড়ে উঠেছিল। নাম রোম। এই রোম শহরকে এক সময় ‘বিশ্বের রাজধানী’ বলা হতো। অনেকে একে বিশ্বের প্রথম রাজকীয় শহর, প্রথম মেট্রোপলিটন শহরও বলে থাকে। এই শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল রোমক রাজ্য, রোমক

পারস্য সাম্রাজ্য (আকিমানিদ) (৫৪০ খ্রি.পূ)

পারস্য সভ্যতা- উত্থান ও বিকাশ (১ম ভাগ)

পারস্য সভ্যতা: আকিমানিদ সাম্রাজ্য-মেসিডোনিয় শাসন-জরথুস্ত্রবাদ-সিলুসিদ শাসন পারস্য সভ্যতা মেসোপটেমিয়ারনব্য ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য ও মিশরের কুশাইট রাজ্য করায়ত্ত্ব করে প্রায় অর্ধ-পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত হয়েছিল।   মেসোপটেমিয়া অঞ্চলের পূর্বের উত্তর-দক্ষিণ অঞ্চল হতে পারস্য সভ্যতার উত্থান হয়। বর্তমান ইরানের আগের নামও পারস্য। তবে এখন ইরান বলতে যে ভূখণ্ড বোঝায়, পারস্য বললে তার থেকে বহুগুণ বড় এক অঞ্চল বোঝাত।  খ্রিস্টপূর্ব

এক্সোডাস ম্যাপ

ফারাও শাসনের পুনরুত্থান (মিশরীয় সভ্যতা- ২য় ভাগ)

ফারাও শাসনের পুনরুত্থান: ফারাও-আকিমানিদ-আক্সুমাইট ফারাও শাসনের পুনরুত্থান ঘটায় ১ম আহমোসিস। তিনি হাইকসস শাসনের (১৫, ১৬ ‍ও ১৭তম বংশ) অবসান ঘটিয়ে মিশরের শাসন পুনরায় মিশরীয়দের হাতে ফিরিয়ে আনে। থিবজ শহরকে কেন্ত্র করে সে অষ্টাদশ বংশের (১৫৫০–১২৯২ খ্রি.পূ.) প্রতিষ্ঠা করে। এ বংশের অন্যান্য ফারাওদের মধ্যে হ্যাতশেপসুট, আকনাথুন (৪র্থ আহমুনহোথেপ) ও তাঁর স্ত্রী নেফারতিতি ও তুতানখামুনের নাম উল্লেখযোগ্য।

হায়ারোগ্লিফিক্স

ফারাও শাসনের উত্থান ও বিকাশ (মিশরীয় সভ্যতা- ১ম ভাগ)

ফারাও শাসনের উত্থান ও বিকাশ: ফারাও- কুশাইট মিশরীয় সভ্যতা পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীনতম সভ্যতা। বিশ্বের দীর্ঘতম আফ্রিকার নীল নদের অববাহিকায় এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে দশটি দেশ পার হয়ে সর্বশেষে মিশর অতিক্রম করে নীল নদ ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়। মিশরের মধ্য দিয়ে এ নদের প্রবাহকে কেন্দ্র করে প্রাচীন মিশরকে দুই ভাগে

পৃথিবীর গল্প: চীনে এগারো শত বছরের শাসনে দুই রাজবংশ

চীনা সভ্যতা- এগারো শত বছরের শাসনে দুই রাজবংশ

চীনা সভ্যতার ইতিহাসে শিয়া ও শাং রাজবংশ চীনা রূপকথা ও লোককাহিনীর তিন কিংবদন্তী ও পাঁচ সম্রাটের পরে প্রায় এগারো শত বছর (২০৭০-১০৪৬ খ্রিঃপূঃ) ধরে দুটি রাজবংশ চীন শাসন করে। এদের একটি শিয়া রাজবংশ, অন্যটি শাং রাজবংশ। শিয়া রাজবংশ পাঁচশো আর শাং রাজবংশ ছয়শো বছর ক্ষমতায় ছিলো।    পাঁচশো বছরের শিয়া (Xia) রাজবংশ (২০৭০–১৬০০ খ্রিঃপূঃ) ও

পৃথিবীর গল্প- চার সভ্যতার লীলাভূমি মেসোপটেমিয়া

মেসোপটেমিয়া-চার সভ্যতার লীলাভূমি (১ম ভাগ)

মেসোপটেমিয়া সভ্যতা: সুমেরীয়-আকেদীয়-গুটি-সুমেরীয় মেসোপটেমিয়া সভ্যতার উত্থান মেসোপটেমিয়া কোন একক সভ্যতা নয়। প্রাচীনকালে এখানে একে একে গড়ে ওঠে চার সভ্যতা-সুমেরীয়, আসেরীয়, ব্যাবিলনীয় ও ক্যালডেরীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে সুমেরীয় সভ্যতা প্রথম গড়ে ওঠে। এর পরে মহান সারগন গড়ে তোলে আকেদীয় সাম্রাজ্য। আকেদীয়দের পরে গুটি শাসন। উতু-হেগেল ফিরিয়ে আনে সুমেরীয় শাসন। এর পরে উর-নাম্মু তৈরি করে পৃথিবীর প্রথম

ইসলামের প্রতীক সরু বাঁকা চাঁদ ও তারা

ইসলামের প্রতীক- সরু বাঁকা চাঁদ ও তারা

সরু বাঁকা চাঁদ ও তারা প্রতীক-এর বুৎপত্তি বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করা হয়। যেমন খ্রিস্টান ধর্মে ‘ক্রুশ’, হিন্দু ধর্মে ‘ওম’। ইসলাম ধর্মের প্রতীকী রূপ প্রকাশে অনেক সময় একটি সরু বাঁকা চাঁদ ও তারা ব্যবহৃত হয়। সরু বাঁকা চাঁদটিকে আরবিতে বলে ‘হিলাল’ আর হিলালের পেটের ভাঁজে থাকে এক বা একাধিক তারা। ৭ম শতকের শেষের দিকে

চীনা রূপকথা ও লোককাহিনী- উদ্ভব, সংস্কৃতি ও সভ্যতা

চীনা রূপকথা ও লোককাহিনী- উদ্ভব ও বিকাশ

চীনা রূপকথা ও লোককাহিনী- তিন কিংবদন্তী ও পাঁচ সম্রাট তিন কিংবদন্তী ও পাঁচ সম্রাট চীনাদের প্রথম ঊনিশশত বছরের ইতিহাস রূপকথা ও লোককাহিনী ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। প্রাচীনতম এ ইতিহাসের সাথে রূপকথা ও লোককাহিনী এতটাই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত যে তাদের ইতিহাস থেকে এ সব রূপকথা ও লোককাহিনী বাদ দিলে ইতিহাস অর্থহীন আর রূপকথা ও লোককাহিনী থেকে ইতিহাস তুলে

একসূত্রে তিন ফরাসি বিপ্লব সভ্যতা

পশ্চিমা গণতন্ত্রের ইতিহাসে ফরাসি তিন বিপ্লব

ফরাসি বিপ্লব-জুলাই বিপ্লব-ফেব্রুয়ারি বিপ্লব পশ্চিমা গণতন্ত্রের ইতিহাসে ফরাসিতে পর পর তিনটি বিপ্লব ঘটে-ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯), জুলাই বিপ্লব (১৮৩০) ও ফেব্রুয়ারি বিপ্লব (১৮৪৮)। ফরাসি বিপ্লব দিয়ে এই তিন বিপ্লবের পরম্পরা শুরু হয়। এ বিপ্লবে মাধ্যমে পশ্চিমা সভ্যতার ফ্রান্স রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র পথে চলতে শুরু করে। ১৭৮৯ সালে ফরাসিতে যে বিপ্লব দেখা যায়, তা কোনো আকস্মিক কারণে ঘটেনি। পঞ্চদশ লুইয়ের অষ্ট্রিয়ার

ইতিহাসের সেরা ২০-টি ভুল

ইতিহাসের সেরা ২০-টি ভুল

ভুলের উর্ধে কেউ নয়। সাধারণ মানুষের জীবনের পরতে পরতে ভুলের কালিমা লেগে আছে। কিছু ভুল মার্জনা করা যায়, কিছু ভুল শুধরে নেয়া যায়। কিন্তু কিছু কিছু ভুল থাকে যার যার প্রতিফল হাজার বছরেও শেষ হয় না। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কিছু ছোটখাট ভুল আছে যে গুলোর মাশুল ছিল অনেক বড়। সেগুলো অনেক বড় বড় ঘটনার জন্ম

বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

প্রাচীন বাংলা ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বদিকে সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমতলভূমিতে অবস্থিত মগধকে কেন্দ্র করে মৌর্য্য সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে। এই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।  চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য, বিন্দুসার ও অশোক এই সাম্রাজ্যকে দক্ষিণ ভারতে বিস্তার করেন। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজ-উপদেষ্টা চাণক্য বা কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত ছিলেন একজন প্রাচীন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক। তিনি অর্থশাস্ত্র নামক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন। অশোকের মৃত্যুর পঞ্চাশ বছরের মধ্যেই এই সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। খ্রিস্টীয় প্রথম ও