X

অগ্নিপ্রপাত- আগুনের ধারা বহিছে ভূবনে

অগ্নিপ্রপাত (Firefall!) বা ঝর্ণার মতো আগুনের ধারা পড়তে দেখেছেন কখনো? ভাবুন তো, জলপ্রপাত মতো দেখতে কোন একটি স্থান হতে পানির বদলে আগুন ঝরে পড়ছে? ব্যাপারটা অবাক করার মতো, তাই না? চলুন, ঘুরে আসি অসাধারণ এই অগ্নিপ্রপাত থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল ভ্যালির এল ক্যাপিটানের পূর্ব প্রান্তে এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত। এর আসল নাম হর্সটেইল জলপ্রপাত। এটি একটি মৌসুমী জলপ্রপাত।

সাধারণত শীতকালে এবং বসন্তে এই পানির প্রবাহ দেখা যায়। ফেব্রুয়ারি মাসে যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, তবে দুই সপ্তাহের জন্য সূর্যাস্তের সময় সূর্যের আলো জলপ্রপাতের উপরে পতিত হলে এই জলপ্রপাতের পানির রঙ হয় কমলা বা লাল।

প্রাকৃতিক এই ঘটনাকে অনেকে অগ্নিপ্রপাত বা Firefall বলে। তবে কিছু ব্যাপার আছে। যদি ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যাপ্ত তুষারপাত না হয়, তাহলে জলপ্রপাত থেকে পর্যাপ্ত প্রবাহ হবে না। আবার, এই তুষার গলার জন্য অনেক সূর্যের তাপের প্রয়োজন হয়। কোন কারনে যদি সেই তাপ না পাওয়া যায়, তাহলে এই তুষার গলবে না এবং এই জলপ্রপাত থেকে কোন প্রবাহ হবে না।

তবে এই সব কিছু যদি ঠিক থাকে তবেই এর পানির রঙ পরিবর্তন হবে তাও না। কারন এই কমলা আভার জন্য সূর্যের আলো একটি বিশেষ কৌনিক অবস্থান থেকে এই জলপ্রপাতের পানির উপরে পড়তে হবে, অবশ্যই আবহাওয়া পরিস্কার হতে হবে এবং সূর্যের সামনে মেঘ বা কুয়াশা থাকা চলবে না।

সব শর্ত পুরন করতে পারলেই শুধু সেই কমলা আভা দেখা যাবে। তবে শুধু ১০ মিনিটের জন্য। এটা দেখলে প্রায় ঝলসানো রক্ত ​​লাল এটি একটি অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা হয়।

এই জলপ্রপাত থেকে পাশাপাশি দুইটি প্রবাহ থেকে পানি নিচে পতিত হয়। পশ্চিম পাশের প্রবাহটি পূর্ব পাশের থেকে একটু উপরে। পশ্চিম পাশের প্রবাহটি ১,৫৪০ ফিট (৪৭০ মিটার) উপর থেকে পতিত হয়। পূর্ব পাশেরটি ১,৫৭০ (৪৮০ মিটার) উপর থেকে পতিত হয়। এটি ছোট আকারের জলপ্রপাত।

এই জলপ্রপাতটি কে আবিস্কার করেছে সেই সর্ম্পকে কোন কিছু জানা যায়নি। তবে শত শত বছর এই উপত্যাকায় বসবাসর‍ত আওয়ানিচি ইন্ডিয়ানরা সম্ভবত এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু তারা এই তথ্যটি সাদা চামড়াদের কাছে প্রেরণ করেছে কি না তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

১৮৫১ সালে হোয়াইট ম্যুর নামের একজন সাদা চামড়ার মানুষ এটাকে প্রথম দেখতে পান। পরবর্তী কয়েক দশকে এই প্রাকৃতিক জলপ্রপাতটির কথা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলেও ফায়ারফলের কথা কখনো উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি হোয়াইট ম্যুর ও কিছু বলেননি।

১৯৭৩ সালে ফটোগ্রাফার গ্যালেন রওয়েল প্রাকৃতিক এই ফায়ারফলের প্রথম পরিচিত ছবিটি গ্রহণ করেন। রওয়েলের ছবির কারনে ফায়ার ফলের খ্যাতিকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলে। তবে ডিজিটাল ফটোগ্রাফি এবং সামাজিক মিডিয়া আগমনের আগ পর্যন্ত এই জলপ্রপাতটি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে নি।

বর্তমানে শত শত মানুষ এই দৃশ্য দেখতে এবং এর ছবি তুলতে প্রতি ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে ভিড় করে।

সুত্রঃ ট্রাভেল ইয়োসেমাইট, ইয়োসেমাইট ফায়ারফল, হর্সটেইল ফল, ফিল প্লানেট।

লেখক- নেবুলা মোর্শেদ

লেখকের অন্য নিবন্ধ