সিফিনের যুদ্ধ

বিষের কারণে হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) এর মৃত্যু নিয়ে আমার বেসুরো বয়ান

হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) বিষের প্রতিক্রিয়ায় মারা যান। কে তাঁকে বিষ দিল? কি বিষে তিনি মারা গেলেন?  হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় নাতি (যার ঠোঁটে তিনি চুমু খেতেন, পিঠে চড়াতেন, কোলাকুলি করতেন) ও ‘জান্নাতে যুবকদের সর্দার’ কেন বিষপ্রয়োগে মারা গেলেন? কি ছিল সেই ঘটনার পেছনের ঘটনা? এসব জানতে প্রথমে বেশ কিছু বক্তার ভিডিও দেখি। গোটা

ক্যালিগুলার শাসনামলে রোমক সাম্রাজ্য

রোমক সাম্রাজ্যঃ রোমক সভ্যতার ইতিহাস (৩য় ভাগ)

রোমক সাম্রাজ্য সূচনা করে অগাস্টাস। ১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অগাস্টাস রোমক সাম্রাজ্যের সম্রাট ছিলেন। সে আনুষ্ঠানিক ভাবে রোমক গণপ্রজাতন্ত্র বিলুপ্ত করেনি। ক্ষমতায় এসে সে পুনরায় সিনেট প্রতিষ্ঠা করে। তবে নিজেকে সিনেটের সর্বক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। সে সিনেটের যেকোনো সিদ্ধান্তে ‘ভেটো’ দিতে পারতো। তার পদবী ছিলো ‘প্রিন্সেপস সেনাটাস’ (princeps senatus) বা প্রথম সিনেটর। সে প্রায় ৮২টি মন্দির নির্মাণ করে। রোমের

Juanita-হুয়ানিতা

হুয়ানিতা ধর্মের নিষ্ঠুরতার এক কালসাক্ষী

হুয়ানিতা ধর্মের নিষ্ঠুরতার এক কালসাক্ষী। হুয়ানিতার মমি ধর্মের নামে নারী বলিদানের বিরুদ্ধে এক নিরব প্রতিবাদের প্রতিকস্বরূপ আজও টিকে আছে। ৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ জোহান রেইনহার্ড এবং তার সহকারী মিগুয়েল জারাতে পেরুর আরেকিপায় অবস্থিত মাউন্ট এমপাটোর ২০,৬৩০ ফুট চুড়ায় উঠেন।তাদের লক্ষ্য ছিলো জীবন্ত আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ করা এবং সেই সাথে পর্বতের চূড়ায় আচ্ছাদিত বরফ কি ভাবে

গ্রিক পুরাণের সহজপাঠ- অলিম্পিয়ান দেব-দেবীগণ (শেষ ভাগ)

গ্রিক পুরাণের সহজপাঠ: অলিম্পিয়ান দেব-দেবীগণ (শেষ ভাগ)

গ্রিক দেব-দেবীদের জন্ম ও বংশপরিচয়ঃ অলিম্পিয়ান দেব-দেবীগণ গ্রিক পুরাণের সহজপাঠে পূর্বে আরো দুটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথমটিতে গ্রিক পুরাণের আদিম দেব-দেবীগণ এবং দ্বিতীয়টিতে তিতান দেব-দেবীগণের পরিচয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের এই শেষ পর্বে গ্রিক পুরাণের তৃতীয় প্রজন্ম তথা অলিম্পিয়ান দেব-দেবীদের পরিচয় তুলে ধরা হলো। গ) গ্রিক অলিম্পিয়ান দেব-দেবীগণ গ্রিক পুরাণের দেব-দেবীদের দ্বিতীয় ভাগে বলা হয়েছে, ক্রোনাস

গ্রিক পুরাণের সহজপাঠ- দেব-দেবীদের কুণ্ডলী (২য় ভাগ)

গ্রিক পুরাণের সহজপাঠ: তিতান দেব-দেবীগণ (২য় ভাগ)

গ্রিক দেব-দেবীদের জন্ম ও বংশপরিচয়ঃ তিতান দেব-দেবীগণ গ্রিক পুরাণের সহজপাঠের প্রথম ভাগে গ্রিকদের আদিম দেব-দেবীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ভাগে থাকছে তিতানদের নিয়ে আলোচনা। তিতানরা গ্রিকদের তিন প্রজন্মের দেব-দেবীদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্ম।    খ) গ্রিক তিতান দেব-দেবীগণ বারো জন তিতানদের ছয়টি যুগল। জোড়ায় জোড়ায় এই যুগল তিতানরা হলো-অশিয়ানোস (Oceanus) ও তেথুস (Tethys), হাপেরিয়ন ও থেইয়া, কয়উস (Coeus) ও ফয়বে (Phoebe), ক্রোনাস (Cronos)

মানচিত্রে মহাভারত মহাকাব্যের স্থানসমূহ

মহাভারত মহাকাব্যের সহজপাঠ- চরিত্রাভিধান

মহাভারত মহাকাব্যের চরিত্র চিত্রণ মহাভারত ও রামায়ণ মহাকাব্যের মতো হিন্দু পুরাণগুলোতে দুটি শক্তিশালী রাজবংশের পরিচয় পাওয়া যায়- সূর্য বংশ ও চন্দ্র বংশ। সূর্য বংশকে ঘিরে রামায়ণ আর চন্দ্র বংশকে ঘিরে মহাভারত মহাকাব্যের চরিত্রাবিধান তৈরী হয়েছে। তাই রামায়ণ ও মহাভারত মহাকাব্যের চরিত্রগুলো বোঝার জন্য সূর্যবংশ ও চন্দ্রবংশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। তবে সূর্য ও চন্দ্র

ছিন্নমস্তক মেডুসা

গ্রিক পুরাণের সহজপাঠ: আদিম দেব-দেবীগণ (১ম ভাগ)

গ্রিক দেব-দেবীদের জন্ম ও বংশপরিচয়ঃ আদিম দেব-দেবীগণ সময়ের সাথে বিশ্বাস বদলে যায়। জিউস, এপোলো, আফ্রোদিতি, কিউপিড প্রভৃতি গ্রিক বা রোমক দেব-দেবীদের নিয়ে আজ আমরা অনেক হাসি-ঠাট্টা করি, মজা করি। কিন্তু তিন থেকে চার হাজার বছর আগে তেমনটি ছিলো না। মানুষ তাদেরকে বিশ্বাস করতো, সর্বশক্তিময় বলে জানতো, পূজা-অর্চনা করতো।  অথচ, হায়রে সময়! কে বলতে পারে তিন

চিত্রিত পাণ্ডলিপি

আদম ও হাওয়ার স্বর্গচ্যুতির শিল্পকর্ম

ধর্ম বিষয়ক চিত্রশিল্প শিল্প-সাহিত্য বিশেষ করে ইউরোপের প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় চিত্রকর্মে আদম ও হাওয়ার যথেষ্ট প্রভাব রয়ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিল্পকর্মে তাদের স্বর্গচ্যুতির ঘটনাকে চিত্রিত করা হয়েছে। সে সময়কার প্রায় সব চিত্রকর্মই খ্রিস্টধর্মীয় ধ্যান-ধারণাকে প্রতিফলিত করে। মধ্যযুগে খ্রিস্টাদের বিভিন্ন প্রার্থনা সংকলিত বই থাকতো। এদেরকে ‘সময় পুস্তক’ ( book of hours) বলা হতো। বইগুলোতে প্রার্থনার পাশাপাশি ধর্মীয়

ইসলামের প্রতীক সরু বাঁকা চাঁদ ও তারা

ইসলামের প্রতীক- সরু বাঁকা চাঁদ ও তারা

সরু বাঁকা চাঁদ ও তারা প্রতীক-এর বুৎপত্তি বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করা হয়। যেমন খ্রিস্টান ধর্মে ‘ক্রুশ’, হিন্দু ধর্মে ‘ওম’। ইসলাম ধর্মের প্রতীকী রূপ প্রকাশে অনেক সময় একটি সরু বাঁকা চাঁদ ও তারা ব্যবহৃত হয়। সরু বাঁকা চাঁদটিকে আরবিতে বলে ‘হিলাল’ আর হিলালের পেটের ভাঁজে থাকে এক বা একাধিক তারা। ৭ম শতকের শেষের দিকে

ডেলফির ওরাকল- সত্য না কি পৌরাণিক গল্প

ডেলফির ওরাকল- সত্য না কি পৌরাণিক গল্প?

ডেলফির ওরাকল (Oracle of Delphi) এক রহস্যের মায়াজাল গ্রিক পুরাণ-এ ডেলফির ওরাকল একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সে কালের ভবিষ্যৎবাণীর আধার এই ডেলফির ওরাকল কি সত্য ছিল? না কি এসব কেবলই পৌরাণিক গল্প? গ্রিসের করিন্থ উপসাগরের উত্তরে পারনাসাস (Parnassus) পর্বতের দক্ষিণ ঢালে ডেলফি মন্দির অবস্থিত। খ্রি.পূর্ব অষ্টম শতকে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। এই

রামায়ণ মহাকাব্যের সহজপাঠ- চরিত্র অভিধান

রামায়ণ মহাকাব্যের সহজপাঠ- চরিত্র অভিধান

রামায়ণ মহাকাব্যের চরিত্র চিত্রণ রামায়ণ মহাকাব্য এক অসাধারণ সাহিত্য। বাংলা সাহিত্যে ও ভাষায় রামায়ণ মহাকাব্যের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। বাংলা ভাষার অমৃত সূধা পান করতে হলে রামায়ণ-এর মতো মহাকাব্য গুলোর চরিত্র ও ঘটনাবলী সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। রামায়ণ মহাকাব্যের কিছু চরিত্র সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে। তবে এ মহাকাব্যের অনেক চরিত্র সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণা নেই।

ওম প্রতীক-অর্থ ও ব্যাখ্যা

হিন্দু ধর্মের ‘ওম’ প্রতীক- অর্থ ও ব্যাখ্যা

ওম (ॐ) প্রতীক- বুৎপত্তি ও বিকাশ হিন্দু ধর্মের পবিত্রতম ও সর্বজনীন প্রতীক ॐ। উচ্চারণে ‘ওম’। বৌদ্ধ, জৈন ও শিখরাও ওম-কে পবিত্র জ্ঞান করে। হিন্দু মন্ত্র, প্রার্থনা ও ধ্যানের শুরুতে ও শেষে ওম উচ্চারণ করা হয়। যেহেতু এটি উচ্চারণ করে স্তব করা হয় তাই একে প্রণব বা ত্র্যক্ষর বলে। মন্দির, ঠাকুরঘর প্রভৃতি ধর্মীয় স্থানের প্রতীকচিহ্ন রূপেও

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

ফেসবুকে ধর্মপ্রচার, না অপপ্রচার?

ফেসবুক ধর্মপ্রচার হয়, না কি অপপ্রচার? ঈশ্বর কী নিয়মিত ফেসবুকিং করেন? তাঁর কী কোনো ফেসবুক একাউন্ট আছে? যদি ফেসবুক একাউন্ট থাকে, তবে সেটির আইডি কী? আইডি জানা থাকলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতাম।  রিকোয়েস্ট একসেপ্ট না করলে ফলো করতাম।  বিষয়টি বুঝতে অনেক দেরী হলো। এতদিনে ঈশ্বর বোধ হয় আমাকে ব্লক করে দিয়েছেন। তবুও, ‘বেটার লেইট দ‍্যান নেভার’।

সে, তুমি সমকামি; মাঝখানে কেন আমি?

সে, তুমি সমকামি; মাঝখানে কেন আমি?

সমকামিতা নিয়ে তিনটি জোরালো বির্তক রয়েছে- (ক) সমকামিতা কি শারীরিক বা মানসিক রোগ? (খ) সমকামীতা-প্রকৃতিবিরুদ্ধ, না স্বাভাবিক? এবং (গ) সমকামিতা বা সমকামি সম্পর্ক/ বিবাহের বৈধতাদান কতটুকু যৌক্তিক? মোটাদাগে যৌনকামিরা তিন ধরণের- বিষমকামি (বা ‘স্ট্রেইট’), সমকামি ও উভকামি। এদের মধ্যে সমকামিরা আবার দুই ভাগে বিভক্ত- ‘গে’ (পুরুষে যৌনাসক্ত পুরুষ) ও ‘লেসবিয়ান’ (নারীতে যৌনাসক্ত নারী)। অন্যদিকে, উভকামিরা

কী সাপ দংশিল লখাইরে!

কী সাপ দংশিল লখাইরে!

সাপ নিয়ে যত কল্পকথা বেচারা সাপ! জন্মের পর থেকেই রূপকথা, উপকথা আর পৌরাণিক কাহিনীর হাতে বন্দি। বন্ধুত্বে সাপ আবার শত্রুতায় সাপ, ধর্মে সাপ আবার অধর্মেও সাপ- হলিউড থেকে ঢালিউড, কী প্রাচীন আর কী আধুনিক, সর্বকালের কল্প-কাহিনীতে সাপের অস্তিত্ত্ব রয়েছে। ইসলাম ধর্মে সাপের মুখে করে ইবলিশ বেহেশতে প্রবেশ করে, সনাতনে মাথায় সাপ পেঁচিয়ে বসে থাকেন শিব,

religious-fundamentalism

ধর্মান্ধতা ও ধর্মবিদ্বেষের সাঁড়াশিতে মানবতার ত্রাহি মধুসূদন

ধর্ম হলো বিশ্বাস– পাপ ও পূণ্যের বিশ্বাস, লৌকিকতা ও অলৌকিকতার বিশ্বাস, নৈতিকতা ও অনৈতিকতার বিশ্বাস, বিশ্বাসযোগ্যতায় বিশ্বাস আবার অবিশ্বাসযোগ্যতায়ও বিশ্বাস; আনুগত্য– বিশ্বাস, প্রার্থনা ও অনুসরণের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য, অবতারগণের প্রতি আনুগত্য, প্রচারকগণের প্রতি আনুগত্য আর অনুচরগণের প্রতি আনুগত্য; লিপিবদ্ধ বা অলিখিত জীবন বিধান-ইহজাগতিক সুখ-শান্তি লাভের উপায়, স্বর্গালোকে সুরক্ষা লাভের উপায়, স্রষ্টা ও সৃষ্টির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপায়,

পহেলা বৈশাখ

পহেলা বৈশাখ উদযাপন বিতর্ক

পহেলা বৈশাখ উদযাপন আসলে প্রতি বছরই বিপরীতমূখী দু’টি মতভেদ প্রকট হয়ে ওঠে- প্রগতিশীল ও রক্ষণশীল মতবাদ। প্রগতিশীলরা মূলত উৎসব উদযাপনে বিশ্বাসী। তারা এ বছর রমনায় গিয়ে পান্তা-ইলিশ খাবে, আগামি বছরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে যদি বিরিয়ানি পায় তাও খাবে; যাওয়া-খাওয়ার আনন্দটাই এদের কাছে মূখ্য। এরা সংস্কৃতিকে বহন করে, ধারণ করে না। রক্ষণশীল মতবাদের আবার দুটি ধারা

রোহিঙ্গা সমস্যা জাতিগত, ধর্মীয় নয়

রোহিঙ্গা সমস্যা জাতিগত, ধর্মীয় নয়

জাতিগোষ্ঠীতে বৈচিত্রপূর্ণ দেশ মিয়ানমার। ঐ সরকারের তথ্য মতে, সেখানে ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠী রয়েছে যারা আটটি প্রধান ভাগে বিভক্ত- বামার, কাচিন, কাইয়াহ, কাইন, চিন, মুন, রাখাইন, শান ও অন্যান্য (ওয়া, নাগা, লাহু, লিসু ও পালাউঙ)। এদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠি যারা মিয়ানমারের জাতিসত্ত্বার মূলধারা বহন করে তারা ‘বামার’ হিসেবে পরিচিত। এ সংখ্যা মাত্র ৬৮ শতাংশ, জনসংখ্যার বাকী অংশ

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতাটি হয়তো অনেকের মনে আছে। কবিতাটির দ্বিতীয় পঙক্তিটি এমন ছিল- ‘বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে৷’ স্যার চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ক্লাসে কবিতাটি পড়াতেন। এমনিতে সব ঠিকঠাক ছিল; শুধু দুটি বিষয়ে রবীন্দনাথের সাথে স্যারের বিরোধ ছিল-(এক) ২য় ও ১০ পঙক্তিতে তিনি “জল” শব্দ বদলে দিয়ে “পানি” দিয়ে পড়াতেন। যেমন- “বৈশাখ মাসে তার হাঁটুপানি থাকে”…“গামছায় পানি ভরি গায়ে