লালনগীতির ব্যাখ্যা – ধরো চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে

‘ধরো চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে’ গানটির মূল বিষয়বস্তু শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ বা প্রাণায়াম। সম্পূর্ণ গানটি ‘চোর’ শব্দকে কেন্দ্র নিয়ে রচিত। শ্বরবিজ্ঞানে মানবদেহে অবস্থানকারী সত্তাদের ‘স্বর্গীয় চোর’ বলে। এরা দুই ধরনের – বৈকুণ্ঠে আত্মগোপনকারী উপাস্য চোর (সাঁই ও কাঁই) ও মনে আত্মগোপনকারী রিপু চোর (কাম, ক্রোধ ইত্যাদি)। “ধরো চোর হাওয়ার ঘরে ফাঁদ পেতে সেকি সামান্য চোরা

লালনগীতির ব্যাখ্যা – এক ফুলে চার রং ধরেছে

‘এক ফুলে চার রং ধরেছে’ গানটিতে লালন দেহতত্ত্ব ও নবীতত্ত্বের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। এই গানের বিষয়বস্তু ‘ফুল’। তবে সে ফুল সাধারণ ফুল নয়, নূরের ফুল। তিনি নারীর ডিম্বকে রূপক অর্থে ‘ফুল’ বলেছেন। “এক ফুলে চার রং ধরেছে ও সে ভাব নগর ফুলে কি আজব শোভা করেছে।।” লালনগীতির ব্যাখ্যা – ঋতুকালে নিঃসৃত ডিম্বে নারীগর্ভ সৃষ্টির নেশায় অপরূপ

চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে

লালনগীতির ব্যাখ্যা – চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে গানের ব্যাখ্যা

চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে আমরা ভেবে করবো কী ।। লালনগীতির রহস্যময় রূপক গানগুলোর মধ্যে এ গান অন্যতম। এ গানটিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করা যায়। লালন জীবিতকালে কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে যাননি বলে বিভিন্ন পণ্ডিত বিভিন্নভাবে তাঁর গান ব্যাখ্যা করেছে। চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে আমরা ভেবে করবো কী ।। ১ম চাঁদ- নারী, ডিম্বাণু, কৈশোর ও ২য় চাঁদ-

তিন পাগলে হলো মেলা

লালনগীতির ব্যাখ্যা – তিন পাগলের মেলা গানের ব্যাখ্যা

“তিন পাগলে হলো মেলা নদে’ এসে তোরা কেউ যাস নে ও পাগলের কাছে ।।” পাগল কেন? কারা সেই পাগল? নদে’ কোথায়? উপরের তিনটি প্রশ্নে উত্তর জানলেই লালনের এ গানটি বোঝা যায়? পাগল কেন? এই তিন পাগল সবাই শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত – হরি পাগল। তাই লালন এদেরকে সবাইকে ‘পাগল’ বলেছেন। কারা সেই পাগল? লালন নিজেই গানের শেষে

মায়েরে ভজিলে হয় সে বাপের ঠিকানা

লালনগীতির ব্যাখ্যা – মায়েরে ভজিলে হয় সে বাপের ঠিকানা

মায়েরে ভজিলে হয় সে বাপের ঠিকানা- লালনগীতির ব্যাখ্যা। ”মায়েরে ভজিলে হয় সে বাপের ঠিকানা নিগম বিচারে সত্য তাই গেলো জানা ॥” লালনগীতির ব্যাখ্যা এ গানটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গানটিতে দুই বার ‘নিগম’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এই নিগম তন্ত্র বুঝলে গানটির মূল অর্থ বুঝতে সুবিধে হয়। এ জন্য হিন্দুধর্মের তন্ত্রশাস্ত্র সম্পর্কে একটু ধারণা থাকা দরকার।