বর্ণবাদ ও বাঙালি আজন্মকাল একসূত্রে গাঁথা

বর্ণবাদ ও বাঙালি আজন্মকাল একসূত্রে গাঁথা

বর্ণবাদ নিয়ে মাঝে মধ্যেই শোরগোল হয়। কয়েকদিন আগে আমেরিকার মিনিসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে ড্রেক শোয়িনসহ কয়েকজন শেতাঙ্গ পুলিশ কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে প্রায় নয় মিনিট ধরে হাঁটুর নিচে চেপে রেখেছিল। ফলে মৃত্যু তার হয়। ঘটনাটি নিয়ে আমেরিকা থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’শ্লোগানে সামাজিক আন্দোলন চলছে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ আন্দোলন উত্তাপ ছড়িয়েছে।

পিথাগোরাস-এর টেট্রাকটিস

পিথাগোরাস-এর টেট্রাকটিস

পিথাগোরাস-এর ‘দশের টেট্রাকটিস’ পিথাগোরাস বিশ্বাস করতেন যে, সংখ্যা বাস্তবিকতার পরম শক্তি (ultimate nature of reality is number) । এ তত্ত্বের ভিত্তিতে তিনি তাঁর ‘দশের টেট্রাকটিস’ (tetractys of the decad) তৈরী করেন। টেট্রাকটিস (tetractys) গ্রিক শব্দ, যার অর্থ চার। এটি ত্রিভূজাকৃতির এমন একটি ডায়াগ্রাম যেখানে চারটি সারিতে ১, ২, ৩ ও ৪-টি করে বিন্দু রয়েছে, যাদের

একুশের এস্তেঞ্জায় এলাকাঁড়ি

একুশের এস্তেঞ্জায় এলাকাঁড়ি

মার্চ এলেই স্বাধীনতার মাস, ডিসেম্বরে বিজয়ের মাস, তেমনিভাবে ফেব্রুয়ারি এলেই শুনি ভাষার মাস। একই সঙ্গে টেলিভিশনের (অপ্রচলিত বাংলায় দূরদর্শন!) পর্দার কোণে কোণে ভেসে ওঠে অ, আ, ক, খ বা শহীদ মিনারের প্রতিচ্ছবি। অতটা বুদ্ধিজীবী নই যে স্বাধীনতা, বিজয়—এসব নিয়ে কথা বলব। তবে গাঁও-গেরামের বাংলাভাষী হিসেবে এ ভাষা নিয়ে দু-একটি কথা না বললে যেন মনের মধ্যে

‘অশ্লীল’ বাংলা, ‘অমার্জিত’ বাংলা

‘অশ্লীল’ বাংলা, ‘অমার্জিত’ বাংলা

বাংলা ভাষা একুশের শ্রেষ্ঠ দান। “একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বোমা ব্যবহার করার দরকার নেই, তাদের ভাষা ধ্বংস করে দেয়াই যথেষ্ট।” (নোয়াম চমস্কি) বাংলা ভাষার দীনতা- অপ্রতুলতা, অশুদ্ধতা, অপব্যবহার- নিয়ে কপচানোর সময় এসেছে। সুধীজন থেকে বিজ্ঞজন, বিশেষজ্ঞ যাদের হাতে সময় আছে তারা সবাই অন্তত একটি নিবন্ধ হলেও রচনা করবেন, পড়া হবে, আলোচনা-সমালোচনা-মতামত হবে: অতঃপর, ‘লাউ’, ‘কদু’

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

ফেসবুকে ধর্মপ্রচার, না অপপ্রচার?

ফেসবুক ধর্মপ্রচার হয়, না কি অপপ্রচার? ঈশ্বর কী নিয়মিত ফেসবুকিং করেন? তাঁর কী কোনো ফেসবুক একাউন্ট আছে? যদি ফেসবুক একাউন্ট থাকে, তবে সেটির আইডি কী? আইডি জানা থাকলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতাম।  রিকোয়েস্ট একসেপ্ট না করলে ফলো করতাম।  বিষয়টি বুঝতে অনেক দেরী হলো। এতদিনে ঈশ্বর বোধ হয় আমাকে ব্লক করে দিয়েছেন। তবুও, ‘বেটার লেইট দ‍্যান নেভার’।

ফিদেল ক্যাস্ট্রো সমীপে

ফিদেল ক্যাস্ট্রো সমীপে

২৫ নভেম্বর ২০১৬ সালে ফিদেল ক্যাস্ট্রো মারা যায়। তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পরে… কমরেড মহাশয়, শতশত ভক্তের অশ্রুস্নাত হয়ে আপনি তো চলে গেলেন।  এখন তো পুঁজিবাদী লাভ-লোকসান হিসাবের পালা- বিপ্লব, মুক্তি, সাম‍্য এসবের নামে কী নামে আপনি কি কি নিলেন, কি দিলেন আর কী-ই বা আমাদের জন‍্য রেখে গেলেন? আপনার যে দাড়ি দেশের জন্য ‘অনেক

জঙ্গিবাদ- প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

জঙ্গিবাদ- প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

“আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান”- স্লোগানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মৌলবাদী সংগঠনের গোড়াপত্তন হয় ১৯৯২ সালে।  সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে (১৯৭৯-৮৯) বেশ কিছু মুজাহিদ আফগানদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল। তালেবানদের বিজয়ে উদ্বুদ্ধ আফগানফেরত এ সকল ম‍্যাকবেথরা ৩০ এপ্রিল  জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী বাংলাদেশ’ (হুজি) নামে একটি দল তৈরির ঘোষণা দিয়েছিল। এর দু’বছর পরে

হ্যালোউইন

হ্যালোউইন

আমার ধারণা ছিল যে ভূত-প্রেতাত্মা শুধু বাংলাদেশ, ভারতের গ্রামাঞ্চলের মেধাস্বত্ত্ব। এখন তো দেখি ইউরোপ-আমেরিকার লোকজনও কম কুসংস্কারাচ্ছন্ন নয়। এদের বিশ্বাসে ভূত, ভ‍্যাম্পায়ার, ডাকিনী, জমবি (zombie) কোনোটারই কোনো ঘাটতি নেই। এরা ভূতে যে শুধু বিশ্বাস করে তা নয়, রীতিমত ভূতের পূজা-অর্চনা করে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার ব‍্যবসা করছে। পাশ্চাত‍্যে ভূতের এ  পূজা, এ ব‍্যবসার নাম

ভূত রহস্য

ভূত রহস্য

শুরুতেই বিষয়টি পরিস্কার করে নেয়া ভালো যে আজকের এই লেখাটি জ্বীন নিয়ে নয়, ভূত নিয়ে। তাই প্রথমে জ্বীন ও ভূতের মাঝে একটি সূক্ষ্ণ রেখা টেনে নেয়া প্রয়োজন। পবিত্র কোরানের ৭২তম ‘সূরা জ্বীন’ ও ১১৪তম ‘সূরা নাস’ এ জ্বীনের অস্তিত্ত্ব স্বীকার করা হয়েছে। মানুষের ন্যায় জ্বীন জাতিও আল্লাহ্তা’লার সৃষ্টি যারা হযরত আদম (আঃ) এর আগমনের ২০০০ বছর পূর্ব থেকেই

কী সাপ দংশিল লখাইরে!

কী সাপ দংশিল লখাইরে!

সাপ নিয়ে যত কল্পকথা বেচারা সাপ! জন্মের পর থেকেই রূপকথা, উপকথা আর পৌরাণিক কাহিনীর হাতে বন্দি। বন্ধুত্বে সাপ আবার শত্রুতায় সাপ, ধর্মে সাপ আবার অধর্মেও সাপ- হলিউড থেকে ঢালিউড, কী প্রাচীন আর কী আধুনিক, সর্বকালের কল্প-কাহিনীতে সাপের অস্তিত্ত্ব রয়েছে। ইসলাম ধর্মে সাপের মুখে করে ইবলিশ বেহেশতে প্রবেশ করে, সনাতনে মাথায় সাপ পেঁচিয়ে বসে থাকেন শিব,

পৃথিবীর বিষাক্ততম প্রাণি

পৃথিবীর বিষাক্ততম প্রাণি

বাংলার ‘বিষাক্ত’ বোঝাতে ইংরেজিতে সাধারণত দু’টি শব্দ ব্যবহৃত হয়- ‘পয়জনাস’ (poisonous) ও ‘ভেনামাস’ (venomous)। ‘পয়জনাস’ হলো সেই সকল প্রাণি যাদেরকে ভক্ষণ করা হলে বা স্পর্শ করলে অন্য প্রাণির শরীরে বিষক্রিয়া শুরু হয়। সেজন্য কোন খাবার খেয়ে আমাদের বদহজম হলে আমরা তাকে ‘ফুড পয়জনিং’ বা খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে থাকি।অন্যদিকে, ‘ভেনামাস’ সেই সকল প্রাণি যারা অন্য প্রাণির

religious-fundamentalism

ধর্মান্ধতা ও ধর্মবিদ্বেষের সাঁড়াশিতে মানবতার ত্রাহি মধুসূদন

ধর্ম হলো বিশ্বাস– পাপ ও পূণ্যের বিশ্বাস, লৌকিকতা ও অলৌকিকতার বিশ্বাস, নৈতিকতা ও অনৈতিকতার বিশ্বাস, বিশ্বাসযোগ্যতায় বিশ্বাস আবার অবিশ্বাসযোগ্যতায়ও বিশ্বাস; আনুগত্য– বিশ্বাস, প্রার্থনা ও অনুসরণের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য, অবতারগণের প্রতি আনুগত্য, প্রচারকগণের প্রতি আনুগত্য আর অনুচরগণের প্রতি আনুগত্য; লিপিবদ্ধ বা অলিখিত জীবন বিধান-ইহজাগতিক সুখ-শান্তি লাভের উপায়, স্বর্গালোকে সুরক্ষা লাভের উপায়, স্রষ্টা ও সৃষ্টির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপায়,

সোফিয়া ও বারাক ওবামা!

সোফিয়া ও বারাক ওবামা!

“মার্কিন ডলার বা মুদ্রায় নারীদের ছবি দেখি না কেন?” (প্রাক্তন) মর্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার উদ্দেশ্যে লেখা ম্যাসাচুয়েটস প্রদেশের নয় বছরের ছোট্ট শিশু সোফিয়ার এ প্রশ্নটির কোন সদুত্তর কী তিনি দিতে পেরেছেন! গত বছর ওবামাকে লেখা সেই ‘মহান চিঠি’টির একটি উত্তর পেয়েছে সোফিয়া। তাতে ওবামা লিখেছেন “নারী-পুরুষের সমান অধিকারের একটি দেশে তুমি যেন বেড়ে ওঠো সেটি

মহান স্বকামী (সালভাদর ডালি), ১৯২৯

শিল্প-সাহিত‍্যে স্বকাম

শিল্প-সাহিত‍্যে স্বকাম বোঝার জন্য একটু ইংরেজির সহায়তা প্রয়োজন। ইংরেজি ‘ম‍্যাসটারবেইশন’ শব্দের প্রচলিত বাংলা প্রতিশব্দের যুক্তাক্ষর বা ঐ-কার শব্দটির আয়তন যতটা বাড়িয়েছে শ্রতিকটুতা ততটা কমাতে পারেনি।  তাই ‘হস্ত’ রেখে শব্দমৈথুন করে ‘স্বকাম’ নিয়ে এগুতে হলো। এটাই শিল্প।  দেখার চোখ ও বোঝার চোখের মধ‍্যে যেটুকু ফাঁকি দিয়ে ততটুকুই শিল্পের পরিব‍্যাপ্তি।  শিল্পীরা এখানেই আমাদের থেকে ভিন্ন।  তারা ভিন্ন

গন্তব্যহীন চিঠি

গন্তব্যহীন চিঠি

 “পৃথিবীতে অনেক মহামূল্য উপহার আছে তার মধ্যে সামান্য চিঠিখানি কম জিনিস নয়। … … …ওর মধ্যে আরও একটা রস আছে … … …যাদের মধ্যে চিঠি লেখালেখির অবসর ঘটেনি তারা পরস্পরকে অসম্পূর্ণ করেই জানে… . লেফাফাটি চিঠির প্রধান অঙ্গ। ওটা একটা মস্ত আবিস্কার।” (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) প্রিয় বন্ধু ও নিমাইয়ের মেমসাহেব, কেমন আছো? কিছু জানার ছিল, জানা হয়নি।

মন-প্রাণের সম্পর্ক ও মানুষের অমরত্ব

মন-প্রাণের সম্পর্ক ও মানুষের অমরত্ব

প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ তার প্রাণ। সকল প্রাণীর প্রাণ থাকে। মানবদেহে প্রাণ হলো মন, আবেগ-অনুভূতি ও কামনা-বাসনার এক মিথস্ক্রিয়া। অন‍্যান‍্য প্রাণীর সাথে মানুষের পাথর্ক‍্য হলো প্রাণে মনের উপস্থিতি। যদি মন না থাকতো তবে অন‍্য সকল প্রাণী থেকে মানুষকে কখনও আলাদা করা যেত না। মানুষের মন তার চেতন-অর্ধচেতন-অবচেতন ভাবনা, যুক্তি ও জ্ঞানের সামষ্টিক প্রতিফলন। প্রাণী হিসেবে প্রাণের

যৌনতা যদি অজ্ঞতা, ধর্ষণ তবে জৈবিক অধিকার

যৌনতা যদি অজ্ঞতা, ধর্ষণ তবে জৈবিক অধিকার

‘ধর্ষণ কোনো আধুনিক ব্যাপার নয়, এবং বিশেষ কোনো সমাজে সীমাবদ্ধ নয়। তবে কোনো কোনো সমাজ বিশেষভাবে ধর্ষণপ্রবণ, আর কোনো কোনো সমাজ অনেকটা ধর্ষণমুক্ত; যদিও সম্পূর্ণ ধর্ষণমুক্ত সমাজ ও সময় কখনই ছিল না, এখনো নেই।… পৃথিবীতে পৌরাণিক কাল আর নেই, দেবতারা আর ধর্ষণ করে না; তবে দেবতাদের স্থান নিয়েছে আজ পুরুষেরা; প্রায় অবাধ ধর্ষণ চলছে আজ পৃথিবী

BCS এখন এক নেশার নাম

BCS এখন এক নেশার নাম

গত বারো বছর আগেও এমন ছিল না। মানুষ বিসিএস নিয়ে এত উৎসুক ছিলো না। গত এক দশক ধরে বিসিএস নিয়ে বেকারদের উৎসাহ এক ধরনের উন্মত্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছে। উন্মত্ততা এখন তো দেখি মাদকতায় রূপ নিয়েছে। গত এক দশকে যে পরিমাণ মানুষকে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এমনকি এত অল্প সময়ে এত বেশি

জন্ম ও মৃত্যু একটি অপূর্ণাঙ্গ সত্য

জন্ম ও মৃত্যু একটি অপূর্ণাঙ্গ সত্য

জীব হলো আত্মা, দেহ ও চেতনাবোধের সামষ্টিক প্রতিফলন। যার জন্ম আছে তার মৃত্যু আছে, যা সৃষ্টি হয় তা ধ্বংস হয়। আত্মার জন্ম নেই, মৃত্যুও নেই। আত্মা পরমাত্মার সৃষ্টি, কেবল তিনিই তা ধ্বংসের ক্ষমতা রাখেন। তবে পরকালতত্ত্ব আত্মাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করে কারণ পরকালে যদি আত্মাকে জবাবদিহিতা করতে হয় তবে তাকে অবশ‍্যই টিকে থাকতে হবে। সুতরাং,