‘অশ্লীল’ বাংলা, ‘অমার্জিত’ বাংলা

‘অশ্লীল’ বাংলা, ‘অমার্জিত’ বাংলা

বাংলা ভাষা একুশের শ্রেষ্ঠ দান। “একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য বোমা ব্যবহার করার দরকার নেই, তাদের ভাষা ধ্বংস করে দেয়াই যথেষ্ট।” (নোয়াম চমস্কি) বাংলা ভাষার দীনতা- অপ্রতুলতা, অশুদ্ধতা, অপব্যবহার- নিয়ে কপচানোর সময় এসেছে। সুধীজন থেকে বিজ্ঞজন, বিশেষজ্ঞ যাদের হাতে সময় আছে তারা সবাই অন্তত একটি নিবন্ধ হলেও রচনা করবেন, পড়া হবে, আলোচনা-সমালোচনা-মতামত হবে: অতঃপর, ‘লাউ’, ‘কদু’

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

ফেসবুকে ধর্মপ্রচার, না অপপ্রচার?

ফেসবুক ধর্মপ্রচার হয়, না কি অপপ্রচার? ঈশ্বর কী নিয়মিত ফেসবুকিং করেন? তাঁর কী কোনো ফেসবুক একাউন্ট আছে? যদি ফেসবুক একাউন্ট থাকে, তবে সেটির আইডি কী? আইডি জানা থাকলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতাম।  রিকোয়েস্ট একসেপ্ট না করলে ফলো করতাম।  বিষয়টি বুঝতে অনেক দেরী হলো। এতদিনে ঈশ্বর বোধ হয় আমাকে ব্লক করে দিয়েছেন। তবুও, ‘বেটার লেইট দ‍্যান নেভার’।

হ্যালোউইন

হ্যালোউইন

আমার ধারণা ছিল যে ভূত-প্রেতাত্মা শুধু বাংলাদেশ, ভারতের গ্রামাঞ্চলের মেধাস্বত্ত্ব। এখন তো দেখি ইউরোপ-আমেরিকার লোকজনও কম কুসংস্কারাচ্ছন্ন নয়। এদের বিশ্বাসে ভূত, ভ‍্যাম্পায়ার, ডাকিনী, জমবি (zombie) কোনোটারই কোনো ঘাটতি নেই। এরা ভূতে যে শুধু বিশ্বাস করে তা নয়, রীতিমত ভূতের পূজা-অর্চনা করে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার ব‍্যবসা করছে। পাশ্চাত‍্যে ভূতের এ  পূজা, এ ব‍্যবসার নাম

সামবা নৃত্য

সামবা নৃত্য

ব্রাজিলের সবচে বড় বাৎসরিক উৎসবের নাম কার্নিভাল। এটি মূলতঃ বিভিন্ন মুখোশ ও বাহারি পোশাকে সামবার তালে তালে নাচের প্যারেড। একই সাথে চলে অদম্য পানাহার ও উম্মত্ত ভালোবাসা বিনিময়ের অযাচিত বহিঃপ্রকাশ। খ্রিস্টধর্ম মতে জেরুজালেম শহরের কালভারি নামক স্থানে যিশু খ্রিস্টকে ক্রুশ বিদ্ধ করে হত্যা করা হয়। এই ক্রসিফিকেইশনের তৃতীয় দিনে যিশু খ্রিস্ট পুনরুত্থান লাভ করে। তাই

সে, তুমি সমকামি; মাঝখানে কেন আমি?

সে, তুমি সমকামি; মাঝখানে কেন আমি?

সমকামিতা নিয়ে তিনটি জোরালো বির্তক রয়েছে- (ক) সমকামিতা কি শারীরিক বা মানসিক রোগ? (খ) সমকামীতা-প্রকৃতিবিরুদ্ধ, না স্বাভাবিক? এবং (গ) সমকামিতা বা সমকামি সম্পর্ক/ বিবাহের বৈধতাদান কতটুকু যৌক্তিক? মোটাদাগে যৌনকামিরা তিন ধরণের- বিষমকামি (বা ‘স্ট্রেইট’), সমকামি ও উভকামি। এদের মধ্যে সমকামিরা আবার দুই ভাগে বিভক্ত- ‘গে’ (পুরুষে যৌনাসক্ত পুরুষ) ও ‘লেসবিয়ান’ (নারীতে যৌনাসক্ত নারী)। অন্যদিকে, উভকামিরা

কী সাপ দংশিল লখাইরে!

কী সাপ দংশিল লখাইরে!

সাপ নিয়ে যত কল্পকথা বেচারা সাপ! জন্মের পর থেকেই রূপকথা, উপকথা আর পৌরাণিক কাহিনীর হাতে বন্দি। বন্ধুত্বে সাপ আবার শত্রুতায় সাপ, ধর্মে সাপ আবার অধর্মেও সাপ- হলিউড থেকে ঢালিউড, কী প্রাচীন আর কী আধুনিক, সর্বকালের কল্প-কাহিনীতে সাপের অস্তিত্ত্ব রয়েছে। ইসলাম ধর্মে সাপের মুখে করে ইবলিশ বেহেশতে প্রবেশ করে, সনাতনে মাথায় সাপ পেঁচিয়ে বসে থাকেন শিব,

Alauddin Vuian

লও হে মা দিবস

মা দিবস প্রচলনের পেছনে যে মার্কিন মহিলার অবদান অনস্বীকার্য, সেই আনা জার্ভিস নিজে কোনদিন মা ছিলেন না। আনা ছিলেন সমাজকর্মী অ্যান রেভেস জার্ভিসের দশম সন্তান। মায়ের নারী সেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সে বরাবরই অ্যানের অনুরক্ত ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে আনা নিবিড়ভাবে মায়ের সেবা-শশ্রূষা শুরু করেন। মায়ের মৃত্যুর তিন বছর পরে ১৯০৮ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে তিনি

এপ্রিল ফুল, তথ্যের ভুল?

এপ্রিল ফুল, তথ্যের ভুল?

এপ্রিল ফুল’স ডে’র জন্ম ইতিহাস আজও রহস্যজনক; সভ্যতার ইতিহাসে ঠিক কোন বছর হতে এই দিনটির প্রথা চালু হয়েছে তা মানুষের কাছে অদ্যাবধি অজানা। ইংরেজি সাহিত্যের জনক জিওফ্রে চসার ১৩৯২ সালে লেখা ‘নান’স প্রিস্ট টেল’ কবিতায়মার্চ মাসের একটি বত্রিশতম দিনের কথা উল্লেখ করেন। কারো কারো মতে এই বত্রিশতম দিনটি বলতে চসার পহেলা এপ্রিলকে বুঝিয়েছিলেন। তবে ঐতিহাসিক

জু-জুৎসু

জু-জুৎসু

ফুটবল নিঃসন্দেহে ব্রাজিলিয়ানদের এক উন্মাদনার নাম। এর পরে যে দুটি খেলা এদেশে সমধিক জনপ্রয়িতা পেয়েছে তার একটার নাম ব্রাজিলিযান জু-জুৎসু আর অন্যটি হলো ‘কাপোয়েরা’। কাপোয়েরার জন্ম এঙ্গোলাতে আর জু-জুৎসুর জন্ম জাপানে। জু (jiu) অর্থ ‘সুশীল’ আর জুৎসু (jitsu) হলো ‘কৌশল’; অর্থাৎ সুশীল কৌশল। জু-জুৎসু মূলত অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ দেহী ও শক্তিশালী কাউকে প্রতিহত করার অন্যতম জনপ্রিয়

আমাজন জঙ্গলে চারটি দিন

আমাজন জঙ্গলে চারটি দিন

আমাজন জঙ্গলে যাত্রা-প্রস্তুতি। বাক্স-পেটরা নিয়ে সবাই হোটেলের নিচে জড়ো হচ্ছিল। আমার মতো সবাই একদিন-দু’দিন আগেই আমাজোনাস প্রদেশের রাজধানী মানাউসে এসে পৌঁছেছে। ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এ প্রদেশেই আমাজন জঙ্গলের মূল অংশের অবস্থান। আয়তনে আমাজোনাস ব্রাজিলের সর্ববৃহৎ প্রদেশ, আয়তন প্রায় ১৬ লক্ষ বর্গকিমি; অর্থাৎ, শুধু এই প্রদেশই আয়তনে বাংলাদেশের ১০ গুণ। যদি এই প্রদেশটি স্বাধীন কোনো দেশ

ব্ল্যাক ফ্রাইডে

ব্ল্যাক ফ্রাইডে – পাশ্চাত্য সমাজের সংস্কৃতি

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার ‘থ্যাঙ্কসগিভিং ডে’ হিসেবে পালিত হয়। ‘থ্যাঙ্কসগিভিং ডে’ এক ধরণের নবান্ন উৎসব- ভালো ফসলের জন্য বিধাতাকে ধন্যবাদজ্ঞাপন। এর পরের দিনই ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ হিসেবে পরিচিত। নামের সাথে ‘ব্ল্যাক’ থাকলেও দিনটি কোনো শোকের আবহ বহন করে না। (যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মতো দু’একটি রাজ্য ব্যতীত) এটি ছুটির দিন নয়; মহাধুমধামে আর ছাড়ে কেনাকাটার দিন। বড়দিনকে সামনে

পহেলা বৈশাখ

পহেলা বৈশাখ উদযাপন বিতর্ক

পহেলা বৈশাখ উদযাপন আসলে প্রতি বছরই বিপরীতমূখী দু’টি মতভেদ প্রকট হয়ে ওঠে- প্রগতিশীল ও রক্ষণশীল মতবাদ। প্রগতিশীলরা মূলত উৎসব উদযাপনে বিশ্বাসী। তারা এ বছর রমনায় গিয়ে পান্তা-ইলিশ খাবে, আগামি বছরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে যদি বিরিয়ানি পায় তাও খাবে; যাওয়া-খাওয়ার আনন্দটাই এদের কাছে মূখ্য। এরা সংস্কৃতিকে বহন করে, ধারণ করে না। রক্ষণশীল মতবাদের আবার দুটি ধারা

মহান স্বকামী (সালভাদর ডালি), ১৯২৯

শিল্প-সাহিত‍্যে স্বকাম

শিল্প-সাহিত‍্যে স্বকাম বোঝার জন্য একটু ইংরেজির সহায়তা প্রয়োজন। ইংরেজি ‘ম‍্যাসটারবেইশন’ শব্দের প্রচলিত বাংলা প্রতিশব্দের যুক্তাক্ষর বা ঐ-কার শব্দটির আয়তন যতটা বাড়িয়েছে শ্রতিকটুতা ততটা কমাতে পারেনি।  তাই ‘হস্ত’ রেখে শব্দমৈথুন করে ‘স্বকাম’ নিয়ে এগুতে হলো। এটাই শিল্প।  দেখার চোখ ও বোঝার চোখের মধ‍্যে যেটুকু ফাঁকি দিয়ে ততটুকুই শিল্পের পরিব‍্যাপ্তি।  শিল্পীরা এখানেই আমাদের থেকে ভিন্ন।  তারা ভিন্ন

Octoberfest

অক্টোবরফেস্ট ব্লুমেনৌ

প্রতি বছর অক্টোবর মাসে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত অক্টোবর ফেস্টের কথা হয়তো অনেকেই জানা আছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম বিয়ার উৎসব। ঐ একই মাসে ১৮দিন ব্যাপী বিয়ারের ২য় বৃহত্তম মেলাটি বসে  ব্রাজিলের সান্তা কাতারিনা প্রদেশের ব্লুমেনৌতে। এটি ব্রাজিলিয় বিয়ার প্রস্তুতকারক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বীয়ার প্রদর্শন ও বিপণন মেলা। এর প্রধান আকর্ষণ হলো বিয়ার ভর্তি ট্রাকের (choppwagen) রাস্তায় রাস্তায় প্রদক্ষিণ

গন্তব্যহীন চিঠি

গন্তব্যহীন চিঠি

 “পৃথিবীতে অনেক মহামূল্য উপহার আছে তার মধ্যে সামান্য চিঠিখানি কম জিনিস নয়। … … …ওর মধ্যে আরও একটা রস আছে … … …যাদের মধ্যে চিঠি লেখালেখির অবসর ঘটেনি তারা পরস্পরকে অসম্পূর্ণ করেই জানে… . লেফাফাটি চিঠির প্রধান অঙ্গ। ওটা একটা মস্ত আবিস্কার।” (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) প্রিয় বন্ধু ও নিমাইয়ের মেমসাহেব, কেমন আছো? কিছু জানার ছিল, জানা হয়নি।

যৌনতা যদি অজ্ঞতা, ধর্ষণ তবে জৈবিক অধিকার

যৌনতা যদি অজ্ঞতা, ধর্ষণ তবে জৈবিক অধিকার

‘ধর্ষণ কোনো আধুনিক ব্যাপার নয়, এবং বিশেষ কোনো সমাজে সীমাবদ্ধ নয়। তবে কোনো কোনো সমাজ বিশেষভাবে ধর্ষণপ্রবণ, আর কোনো কোনো সমাজ অনেকটা ধর্ষণমুক্ত; যদিও সম্পূর্ণ ধর্ষণমুক্ত সমাজ ও সময় কখনই ছিল না, এখনো নেই।… পৃথিবীতে পৌরাণিক কাল আর নেই, দেবতারা আর ধর্ষণ করে না; তবে দেবতাদের স্থান নিয়েছে আজ পুরুষেরা; প্রায় অবাধ ধর্ষণ চলছে আজ পৃথিবী

কাপোয়েরা

কাপোয়েরা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ হার্ড টার্গেট, স্ট্রিট ফাইটার, কিক বক্স-ইউনিভার্সেল সোলজার ও দ্য এক্সপ্যানডেবলস ২ ছায়াছবিতে বেলজিয়ান অভিনেতা ভ্যান ড্যামের মারামারি যেমন মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেছেন। তেমনিভাবে মজা পেয়েছেন ব্লেড ১, ২, ৩ ছবিতে মার্কিন অভিনেতা স্নাইপের মারামারির কলাকৌশলে। ব্যবসা সফল এসব চলচ্চিত্রের মূলে রয়েছে এই দুই অভিনেতার ব্রাজিলিয়ান ফাইটিং স্টাইল। এই স্টাইলটির নাম

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

হিন্দুর ‘জল’ মুসলমানের ‘পানি’

রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতাটি হয়তো অনেকের মনে আছে। কবিতাটির দ্বিতীয় পঙক্তিটি এমন ছিল- ‘বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে৷’ স্যার চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ক্লাসে কবিতাটি পড়াতেন। এমনিতে সব ঠিকঠাক ছিল; শুধু দুটি বিষয়ে রবীন্দনাথের সাথে স্যারের বিরোধ ছিল-(এক) ২য় ও ১০ পঙক্তিতে তিনি “জল” শব্দ বদলে দিয়ে “পানি” দিয়ে পড়াতেন। যেমন- “বৈশাখ মাসে তার হাঁটুপানি থাকে”…“গামছায় পানি ভরি গায়ে

ফেসতা জুনিনা

ফেসতা জুনিনা

উৎসবপ্রেমী ব্রাজিলিয়ানদের তিনটি মূল সংস্কৃতি রয়েছে-  মহোৎসব কার্নিভাল, শৈল্পিক আত্মরক্ষা কৌশল কাপোয়েরা আর জাপানি জুডোর ব্রাজিলিয়ান সংস্করণ জু-জুৎসু। এ তিনটির মতো জনপ্রিয় না হলেও ব্রাজিলে আরেকটি সাংস্কৃতিক উৎসব আছে, নাম ফেসতা জুনিনা (Festa Junina) বা জুন উৎসব। ক্যাথলিক প্রথা হতে উদ্ভূত জুন মাসের এ উৎসবের ইতিহাস সুপ্রাচীন। রোমান প্রাতীচ্য পুরাণের প্রেম ও বিশ্বস্ততার দেবী জুনো ছিলেন শনি বা স্যাটার্নের কন্যা, বৃহস্পতি